২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু? ইরানে বিধ্বংসী মার্কিন হামলার দাবি ঘিরে তোলপাড় বিশ্ব – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
তেহরান/ওয়াশিংটন
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ মিসাইল হামলায় ইরানের প্রধান শহরগুলো কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে ঘনিয়ে এল চরম সংকট। খামেনেইর উত্তরসূরি হিসেবে তড়িঘড়ি যার নাম ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই আলি রাজা আরাফিকেও খতম করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন।
নিযুক্তির কয়েক ঘণ্টাতেই কি শেষ আলি রাজা আরাফি?
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানের শাসনভার সামলাতে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল আলি রাজা আরাফিকে। কিন্তু আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (NSA) এক বিস্ফোরক দাবিতে জানিয়েছে যে, মার্কিন হামলায় খামেনেইর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই মৃত্যু হয়েছে আরাফির। যদি এই দাবি সত্যি হয়, তবে এটি হবে আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও সামরিক বিপর্যয়। তবে ইরান এখনও এই বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো শোকবার্তা বা নিশ্চিতকরণ জানায়নি।
প্রত্যাঘাতের ভিডিও প্রকাশ করল ইরান
আমেরিকার এই দাবিকে উড়িয়ে দিতে ইরান পালটা তাদের সামরিক শক্তির প্রদর্শন করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ইরানের সাধারণ মানুষ সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নেমে এসেছেন। পাশাপাশি ইরানের দাবি, তারা ইজরায়েলের একটি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটিছে এবং ইজরায়েলের অন্তত ১০০ জন সৈন্যকে খতম করা হয়েছে। সবথেকে বড় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে একটি ভিডিও ঘিরে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন জেট বিমান গুলি করে নামানো হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দাবানল
এই সংঘাতের প্রভাব এখন আর শুধু ইরান বা ইজরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধের আঁচ লেগেছে দুবাইসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজ ইতিমদ্যেই ইরানের দিকে রওনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি খামেনেই ও তাঁর উত্তরসূরির পতনের দাবি করায় তেহরান আরও বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
পুরো ইরান জুড়ে এখন থমথমে পরিস্থিতি। সরকারি ভবনগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন কিংবা ইরান কীভাবে এই দ্বিমুখী হামলার জবাব দেবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।

