২৬ জানুয়ারির আগে সেই ভয়াবহ দৃশ্য: কেঁপে উঠেছিল দেশ, ২ মিনিটে ১৩ হাজার মৃত্যু – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
২৬ জানুয়ারি ২০২৬: ২৫ জানুয়ারি রাতে যখন মানুষ ঘুমাচ্ছিল, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কতটা ভয়াবহ দৃশ্যের সম্মুখীন হতে চলেছে তারা। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য শিশুরা অনেক প্রস্তুতি নিয়েছিল।
বাবা-মায়েরা পরম মমতায় সন্তানদের হাতে তেরঙ্গা পতাকা তুলে দিয়ে স্কুলের বাসে তুলে দিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু পরের মুহূর্তেই যে বিভীষিকা নেমে আসতে চলেছে, তা কেউ আঁচ করতে পারেনি। সেই প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালটি দেশ কখনোই ভুলতে পারবে না। আজ দেশ ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করছে। কিন্তু ২৫ বছর আগে এই উৎসাহের মধ্যেই ঘটে যাওয়া ভূমিকম্প এক অপূরণীয় ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল।
২৫ বছর আগের সেই ক্ষত
২০০১ সালে গুজরাটের ভুজে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এত বছর পরেও ভুজের মানুষ সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি ভুলতে পারছেন না। ৭.৭ তীব্রতার এই ভূমিকম্পে একটি স্কুল সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশে গিয়েছিল। শত শত ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক চোখের পলকে ধ্বংসস্তূপের নিচে হারিয়ে যান। মাইলের পর মাইল রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
আজও ঠিক তেমনই কনকনে শীত, তেমনই রোদ। স্কুলে পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীতের জন্য সাদা পোশাকে প্রস্তুত শিশুরা—সবই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কিন্তু ভুজে আজকের সকালটি অন্যরকম। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিট বাজার কাছাকাছি আসতেই মানুষের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। ঘড়ির কাঁটা ৮টা ৪৬ স্পর্শ করতেই মনে হয় যেন সময় থমকে গেছে। হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠা, ঘরবাড়ি দুলতে থাকা, দেওয়াল ভেঙে পড়া—মাত্র দুই মিনিটে সব তছনছ হয়ে গিয়েছিল। মন্দির, স্কুল, হাসপাতাল—কিছুই অক্ষত ছিল না। ১৩ হাজারেরও বেশি তাজা প্রাণ ইতিহাসের পাতায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল।
আসলে কী ঘটেছিল?
২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারি সকাল। দেশ ৫১তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে মগ্ন ছিল। পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি চলছিল। ঠিক সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে ভুজ এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ভূমিকম্প তাণ্ডব চালায়। এই ঘটনায় ১৩ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। ভাচাউ এবং আঞ্জার তালুকের শত শত গ্রাম মানচিত্র থেকে মুছে যায়। আঞ্জারে কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া শত শত স্কুল ছাত্রছাত্রীর ওপর দেওয়াল ভেঙে পড়লে তারা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।
স্মৃতিবন মনে করিয়ে দেয় সেই ট্র্যাজেডি
আজ ভুজের ভুজিয়া পাহাড়ে নির্মিত ‘স্মৃতিবন’ সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি বহন করছে। ওই ভূমিকম্পে নিহতদের নাম এখানকার দেওয়ালে খোদাই করা হয়েছে। কচ্ছের মানুষ কীভাবে আবার নতুন করে জীবন গড়ে তুলেছে, এই মিউজিয়াম সেই গল্পই বলে। আজ কচ্ছের ভবনগুলো ভূমিকম্প-সহনীয় পদ্ধতিতে তৈরি করা হচ্ছে, কিন্তু প্রকৃতির সামনে মানুষ যে কতটা অসহায়, সেই স্মৃতি আজও আমাদের সতর্ক করে দেয়।

