২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক, হিংসার আশঙ্কায় নিলেন বড় সিদ্ধান্ত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অবশেষে অবসান হলো দীর্ঘ ২৬ দিনের প্রতীক্ষার। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে নিজের ঐতিহাসিক অনশন ভাঙলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে এবং তাঁদের হাতে স্যুপ খেয়ে অনশন প্রত্যাহার করেন তিনি। এই সময় সোনমের পাশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো।
অমিত শাহের পদক্ষেপে কাটল বরফ
সূত্রের খবর, সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিশেষ পদক্ষেপ নেন। তাঁর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরই জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং মেদান্তা হাসপাতালে সোনমের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেই দীর্ঘ আলোচনার পর অনশন প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কেন অনশন ভাঙলেন সোনম?
অনশন ভাঙার পর নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে সোনম জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনৈতিক দলের অন্তত ৬৫ জন সাংসদ তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তিনি লেখেন, বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দেশে সম্ভাব্য হিংসার আশঙ্কার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই একটি পৃথক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি সমস্ত শর্ত বিস্তারিতভাবে জানাবেন।
পাশাপাশি, আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে শান্তি বজায় রাখার কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বিনীতভাবে অনুরোধ করেন, কোথাও যেন কোনও ধরনের হিংসার ঘটনা না ঘটে এবং প্রত্যেকে যেন অত্যন্ত সতর্ক থাকেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা
সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করার পরেই তাঁর শারীরিক সুস্থতা কামনা করে এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, সোনমজি যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চলেন এবং দ্রুত তাঁর হারানো ওজন ফিরে পান। ঈশ্বরের কাছে তাঁর দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
কেন শুরু হয়েছিল এই আন্দোলন?
গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর প্রধান দাবিগুলির মধ্যে ছিল শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার, পরীক্ষায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ।
গত সপ্তাহে যন্তর মন্তর থেকে তাঁকে সরিয়ে প্রথমে সফদরজং হাসপাতালে এবং পরে আদালতের অনুমতিতে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ অনশনের ফলে সোনমের শারীরিক ওজন প্রায় ১১ কেজি কমে গিয়েছিল।
