৩০০০ টাকার ‘ঘুষ’ দিচ্ছে বিজেপি! ভোটের মুখে বড় চাপে গেরুয়া শিবির?

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নাকি ঘুষ? ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ ঘিরে তুঙ্গে তরজা
বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে এখন মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে মহিলাদের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পালটা হিসেবে বিজেপি ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ চালু করায় চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। গেরুয়া শিবিরের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘ভোটারদের ঘুষ প্রদান’ বলে অভিহিত করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
অভিযোগ ও আইনি বিতর্ক
তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারী ও স্মৃতি ইরানির বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। তৃণমূলের দাবি, প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফর্ম বিলি করা জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩ নম্বর ধারা ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার পরিপন্থী। তাদের অভিযোগ, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মহিলাদের টার্গেট করে এই ধরণের আর্থিক প্রলোভন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, অবিলম্বে এই কার্ড বিলি বন্ধ করার পাশাপাশি অভিযুক্ত বিজেপি নেতাদের শোকজ করা হোক।
ভোটের সমীকরণে নারী শক্তি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ব্যাপক সাফল্যের প্রভাবকে নস্যাৎ করতেই বিজেপি এই বড় অঙ্কের ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে টানার কৌশল নিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল এই অভিযোগের মাধ্যমে বিজেপিকে নীতিগতভাবে কোনঠাসা করতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ভোটের বাজারে এই ‘ভাতা রাজনীতি’ আদতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির বড় প্রশ্ন।
এক ঝলকে
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলি করছে।
- তৃনমূলের অভিযোগ, এটি ভোটারদের প্রভাবিত করার ‘পরিকল্পিত ঘুষ’ এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন।
- তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন শুভেন্দু অধিকারী ও স্মৃতি ইরানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন।
- লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা এই প্রতিশ্রুতিকে ঘিরে নারী ভোটব্যাঙ্ক দখলের লড়াই তীব্র হয়েছে।
