“৩২ লাখের ব্যবধানে জয়, কিন্তু বাদ পড়েছেন ৩৫ লাখ ভোটার!” সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক দাবি তৃণমূলের – এবেলা

“৩২ লাখের ব্যবধানে জয়, কিন্তু বাদ পড়েছেন ৩৫ লাখ ভোটার!” সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক দাবি তৃণমূলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক দাবি করল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (এআইটিসি)। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় দলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে জয়ের ব্যবধান যেখানে ৩২ লক্ষ ভোটের, সেখানে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর (SIR)-এর মাধ্যমে বাদ পড়া ভোটারদের অমীমাংসিত আপিলের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লক্ষ।

তৃণমূলের দাবি, বহু নির্বাচনী কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধানের তুলনায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। উদাহরণ হিসেবে জানানো হয়, একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মাত্র ৮৬৩ ভোটে হেরেছেন, অথচ সেখানে ৫ হাজার ৪৩২ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার আপিল ট্রাইব্যুনালে ঝুলে রয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়ায় ওই বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিতে পারেননি, যা সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আদালতের অবস্থান ও আইনি পর্যবেক্ষণ

তৃণমূলের এই পরিসংখ্যান শোনার পর শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নির্বাচনের ফলাফলে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রভাব ফেলেছে কি না, তা যাচাই করার জন্য বিস্তারিত তথ্যের প্রয়োজন। আদালত তৃণমূল কংগ্রেসকে একটি সুসংগঠিত মধ্যবর্তী আবেদন (Interim Application) দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান, বর্তমানে আদালতের অগ্রাধিকার হলো ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা লক্ষ লক্ষ আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করা।

অন্যদিকে, তৃণমূলের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ট্রাইব্যুনালে যে হারে মামলার জট রয়েছে, তাতে বর্তমান আপিলগুলো শেষ হতে চার বছর সময় লেগে যেতে পারে। ততদিনে পরবর্তী নির্বাচনও অতিক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর বিপরীতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি পাল্টাযুক্তি দেন যে, কোনো কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট হাই কোর্টে ‘ইলেকশন পিটিশন’ দাখিল করার আইনি পথ খোলা রয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ

এই মামলার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি আদালত বাদ পড়া ভোটারদের সংখ্যাকে ফলাফলের জন্য নির্ণায়ক বলে মনে করে, তবে অনেকগুলো আসনের ভাগ্য নতুন করে নির্ধারণের দাবি উঠতে পারে। আপাতত সব পক্ষই সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের পরবর্তী বিস্তারিত আবেদনের এবং ট্রাইব্যুনালের আপিল নিষ্পত্তির গতির দিকে নজর রাখছে। এই আইনি লড়াই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *