৩৭০ টাকার বিরিয়ানির দাম চোকাতে হলো ক্যারিয়ার দিয়ে! আপত্তিকর মন্তব্যে চাকরি হারালেন যুবক – এবেলা

৩৭০ টাকার বিরিয়ানির দাম চোকাতে হলো ক্যারিয়ার দিয়ে! আপত্তিকর মন্তব্যে চাকরি হারালেন যুবক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ একজন ব্যক্তিকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিতে পারে, আবার মুহূর্তের মধ্যে বড় বিপদেও ফেলতে পারে। বর্তমানে ‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ সংক্রান্ত একটি ঘটনা ইন্টারনেটে আলোচনার ঝড় তুলেছে। গুরুগ্রামের বাসিন্দা হিমাংশু জাংড়া নামের এক ব্যক্তির নাম গত কয়েকদিন ধরে নেটপাড়ায় চর্চায় রয়েছে। কিন্তু এই পরিচিতিই তার জীবনে বড় ঝামেলা ডেকে এনেছে।

বিবাদের কারণ কী?

এই পুরো বিতর্ক শুরু হয় একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো-এর কথোপকথন থেকে। সেই অনুষ্ঠানে হিমাংশু তার ডেটিং অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন যে, তিনি এক মেয়েকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়েছিলেন। সেই কথোপকথনে তিনি নারীদের নিয়ে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই নারীবিদ্বেষী এবং আসাম্মানজনক বলে মনে করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় তোলেন।

ডেটিং বা দেখা করার সময় খরচ করা টাকার বিনিময়ে কিছু আশা করা যে সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়, তা নিয়ে নেটিজেনরা সরব হন। বহু সমাজকর্মী ও নারী অধিকার নেত্রীরাও এর প্রতিবাদ জানান। ফলে ‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ বিষয়টি ইন্টারনেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

ক্ষমা চেয়েও কমছে না ক্ষোভ

সমালোচনার মুখে পড়ে হিমাংশু জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি তার সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে ইন্টারনেট থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। তবে বিতর্ক তাতে থামেনি। কেউ কেউ বলছেন তাকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া উচিত, আবার অনেকে মনে করছেন কেবল ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়।

কো ম্পা নির কঠোর সিদ্ধান্ত: হারালেন চাকরি!

এই বিতর্ক তার পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। হিমাংশু যে কো ম্পা নিতে কাজ করতেন, সেই ‘স্টারভিক ডিজাইন’ (Starvik Design) বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, ভাইরাল ভিডিওতে প্রকাশিত মন্তব্যের সঙ্গে তাদের কো ম্পা নির মূল্যবোধের কোনো সম্পর্ক নেই।

কো ম্পা নির প্রতিষ্ঠাতা বিবেক বিশ্বকর্মার বক্তব্য:

“আমাদের সংস্থা সবসময় নারীর সম্মান ও সমতাকে প্রাধান্য দেয়। ভাইরাল ভিডিওতে হিমাংশুর করা মন্তব্যের সঙ্গে কো ম্পা নি কোনোভাবেই একমত নয়।”

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কো ম্পা নি একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনাও করেছিল। সহকর্মী ও মহিলা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অফিসে হিমাংশুর আচরণ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই এবং তিনি একজন পরিশ্রমী কর্মী। তা সত্ত্বেও, এই পাবলিক বিতর্ক কো ম্পা নির ব্র্যান্ড ইমেজ নষ্ট করছে—এই কারণ দেখিয়ে কো ম্পা নি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

উপসংহার

এই ঘটনা ডিজিটাল বিশ্বে এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদল মানুষ মনে করেন, পাবলিক প্ল্যাটফর্মে কোনো ব্যক্তি যে মন্তব্য করেন, তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। আবার অন্যদল মনে করছেন, একটি ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে একজনের ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেওয়া ঠিক নয়। এই ‘৩৭ো টাকার বিরিয়ানি’র ঘটনা এখন আর কেবল এক ব্যক্তির বিষয় নয়, বরং এটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান, সোশাল মিডিয়ার প্রভাব, অনলাইন দায়বদ্ধতা এবং কর্পোরেট নৈতিকতা নিয়ে সমাজে নতুন করে ভাবাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *