৪ জুন রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাথে ডিজে বাজবে, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিষেকের হুঁশিয়ারি

আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। হুগলির চুঁচুড়া ও সপ্তগ্রামে নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেবল আক্রমণ নয়, এই ভোটকে তিনি সাধারণ মানুষের ‘প্রতিশোধের ভোট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাঙালির আবেগ এবং বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে তিনি ভোটারদের কাছে বিজেপিকে গণতান্ত্রিকভাবে পরাজিত করার আহ্বান জানান।
বিজেপিকে নিশানা ও ঐতিহাসিক বঞ্চনার অভিযোগ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বারবার হয়রানি করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর মতে, এনআরসি, নোটবন্দি এবং রান্নার গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষকে এই দুর্ভোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে হবে। চুঁচুড়া ও সপ্তগ্রামের তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তাঁরা বুথে গিয়ে এই সমস্ত হয়রানির যোগ্য জবাব দেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বিহারের বুলডোজার প্রসঙ্গ
বিজেপির দেওয়া ভাতার প্রতিশ্রুতির তীব্র সমালোচনা করেন অভিষেক। তিনি বিহারের উদাহরণ টেনে দাবি করেন, সেখানে ভোটের আগে মহিলাদের টাকা দিলেও এখন তা ফেরত চাওয়া হচ্ছে এবং টাকা না দিলে বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। বাংলায় বিজেপি ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন:
- বিজেপি যদি তৃণমূলের মতো সফলভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালাতে পারে, তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
- দিল্লিতে বিজেপি সরকার গঠনের ১৪ মাস পরেও প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২৫০০ টাকা সাধারণ মানুষ পায়নি।
- তৃণমূলের গ্যারান্টি মানে ‘লাইফটাইম ওয়ারেন্টি’, আর মোদীর গ্যারান্টি হলো ‘জিরো ওয়ারেন্টি’।
বাংলা বিরোধিতা ও সংস্কৃতির অবমাননা
বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বাংলার মনীষীদের নাম ভুল বলা এবং বাংলার সংস্কৃতিকে অবমাননা করার অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সেনাপতি। অমিত শাহ রানি রাসমণির নাম ভুল বলায় তিনি কড়া সমালোচনা করেন। পাশাপাশি বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিজেপিকে তালিবানের সঙ্গে তুলনা করেন। বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বলেন, ৪ জুন নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন রবীন্দ্র সঙ্গীতের পাশাপাশি বিজয়ের ‘ডিজে’ বাজবে।
গেরুয়া শিবিরে ভাঙন ও জনসভার মঞ্চে দলবদল
এদিন কেবল বক্তৃতাই নয়, জনসভার মঞ্চেই বিজেপিতে বড়সড় ভাঙন ধরান অভিষেক। হুগলি জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রভাত গুপ্ত, সহ-সভাপতি রাজেশ যাদব এবং বাঁশবেড়িয়া মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়সহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও আইটি ইন-চার্জ অভিষেকের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন। ভোটের ঠিক আগে এই দলবদল স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে তৃণমূলকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ভোটের মন্ত্র: এই নির্বাচনকে বঞ্চনার বিরুদ্ধে ‘প্রতিবাদের ও প্রতিশোধের ভোট’ হিসেবে বর্ণনা।
- চ্যালেঞ্জ: বিজেপি শাসিত রাজ্যে কেন নিঃশর্ত ভাতা দেওয়া হয় না, সেই প্রশ্ন তোলা।
- সাংস্কৃতিক সংঘাত: বিজেপিকে ‘বাংলা বিরোধী’ এবং ‘তালিবানি মানসিকতার’ দল হিসেবে কটাক্ষ।
- হুঁশিয়ারি: ৪ জুন ফলাফল প্রকাশের পর বড় জয়ের ইঙ্গিত দিয়ে ডিজে বাজানোর ঘোষণা।
- সাংগঠনিক সাফল্য: জনসভার মঞ্চে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে একঝাঁক নেতার যোগদান।
