৪ বছর ধরে স্বামীর লাশের সঙ্গে ঘুমোতেন মহিলা! মুখ বন্ধ রাখতে সন্তানদের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, অন্যথায় পরিণাম খারাপ হবে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাশিয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্তম্ভিত বিশ্ব। এক নারী টানা চার বছর ধরে তার মৃত স্বামীর লাশের সাথে একই বিছানায় রাত কাটিয়েছেন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি শুধু লাশের পাশেই ঘুমাননি, বরং সন্তানদের ভয় দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করেছিলেন। সম্প্রতি সমাজকর্মীরা ওই বাড়িতে পরিদর্শনে গেলে এই ভয়াবহ সত্যটি প্রকাশ্যে আসে।
তন্ত্রসাধনা ও অলৌকিক বিশ্বাস
তদন্তে জানা গেছে, ৪৯ বছর বয়সী ভ্লাদিমিরের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী শ্বেতলানা দেহটি মমি করে রেখেছিলেন। মৃতদেহের চারপাশে ট্যারোট কার্ড, করোটি এবং প্রাচীন মিসরীয় দেবতা আনুবিসের ছবিসহ বিভিন্ন তান্ত্রিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শ্বেতলানা বিশ্বাস করতেন, তন্ত্রসাধনার মাধ্যমে তার স্বামী আবারও জীবিত হয়ে উঠবেন। এমনকি লাশের পায়ে একটি বিশেষ ক্রস চিহ্নও পাওয়া গেছে, যা কোনো গুপ্ত আচারের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সন্তানদের ওপর মানসিক চাপ
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার ভয়ে শ্বেতলানা তার সন্তানদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিতেন। তিনি তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এই গোপন কথা কাউকে বললে তাদের অনাথ আশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ফলে দীর্ঘ চার বছর বাবার পচাগলা শরীরের সাথেই এক বাড়িতে বন্দি জীবন কাটিয়েছে চার সন্তান। এর আগে একাধিকবার সমাজকর্মীরা বাড়িতে গেলেও তারা কোনো এক রহস্যজনক কারণে লাশের উপস্থিতি টের পাননি।
অভিশাপ ও আকস্মিক মৃত্যু
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে দম্পতির মধ্যে চরম বিবাদ হয়েছিল। ঝগড়ার একপর্যায়ে শ্বেতলানা তার স্বামীকে মৃত্যুর অভিশাপ দেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই ভ্লাদিমির জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর থেকেই বিচ্ছেদ সহ্য করতে না পেরে এবং অলৌকিক প্রত্যাশায় তিনি এই চরম পদক্ষেপ নেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- রাশিয়ায় এক নারী টানা চার বছর তার স্বামীর মৃতদেহের সাথে একই বিছানায় বসবাস করেছেন।
- সন্তানদের অনাথ আশ্রমে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ সময় এই ঘটনা গোপন রাখা হয়।
- বাড়ি থেকে প্রচুর তান্ত্রিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং নারীটি স্বামীর পুনর্জন্মের অপেক্ষায় ছিলেন।
- সমাজকর্মীদের পরিদর্শনের সময় চাঞ্চল্যকর এই মমি রহস্য উন্মোচিত হয়।
