৫ কোটির মাদক উদ্ধার নাকি সাজানো নাটক? রাজস্থানের আদালতে চরম খাঁড়ায় ১০০ মধ্যপ্রদেশ পুলিশ! – এবেলা

৫ কোটির মাদক উদ্ধার নাকি সাজানো নাটক? রাজস্থানের আদালতে চরম খাঁড়ায় ১০০ মধ্যপ্রদেশ পুলিশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো মধ্যপ্রদেশ পুলিশের যে বিশাল মাদক বিরোধী অভিযানকে একসময় ‘মহাসাফল্য’ বলে ঢাকঢোল পেটানো হয়েছিল, তাতেই এবার উলটপুরাণ! রাজস্থানের একটি আদালতের নির্দেশে আইনি খাঁড়া নেমে এল খোদ পুলিশের ওপরেই। রাজস্থান পুলিশের এলাকায় ঢুকে বেআইনি তল্লাশি, ভুয়ো তথ্য পেশ এবং নিয়ম ভাঙার অভিযোগে দুই শীর্ষ পুলিশ কর্তাসহ প্রায় ১০০ জন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান, দুই রাজ্যের পুলিশ মহলেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সিনেমার কায়দায় অভিযান ও ‘৫ কোটির’ গল্প

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। মধ্যপ্রদেশের আগর মালওয়া পুলিশ দাবি করে, গত ২১ জানুয়ারি ফয়জান নামে এক মাদক পাচারকারীকে ৩৩০ গ্রাম এমডি ড্রাগসহ গ্রেফতার করা হয়। তাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, রাজস্থানের ঝালাওয়ার জেলার ঘাটখেড়ি গ্রামের শাহির, মুনাওয়ার ও তাহির নামের তিন ভাই এই মাদক চক্রের মূল পান্ডা।

এরপরই গত ২৮ জানুয়ারি ভোররাতে প্রায় ৮০ জন পুলিশকর্মীর এক বিশাল টিম নিয়ে রাজস্থানের ওই গ্রামে ঝটিকা অভিযান চালায় মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। তৎকালীন পুলিশ সুপার (SP) বিনোদ কুমার সিং ধুমধাম করে প্রেস কনফারেন্স ডেকে দাবি করেন, প্রায় ৫ কোটি টাকার আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের পর্দাফাঁস করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর কেমিক্যাল, ড্রাগ তৈরির মেশিন এবং আগ্নেয়াস্ত্র। গ্রেফতার করা হয় শাহির খান ও মুনাওয়ার ওরফে রাজা নামের দুই ভাইকে।

তদন্তে ফাঁস পুলিশের সব ভুয়ো ‘স্ক্রিপ্ট’

অভিযুক্তদের বাবা হামিদ খান গত ২১ ফেব্রুয়ারি চৌমহলা আদালতে অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রদেশ পুলিশ স্থানীয় রাজস্থান পুলিশকে না জানিয়ে, গায়ের জোরে বাড়িতে ঢুকে তাঁর ছেলেদের ফাঁসিয়েছে। আদালতের নির্দেশে ঝালাওয়ারের অ্যাডিশনাল এসপি ভাগচাঁদ মীনা ঘটনার তদন্তে নামতেই পুলিশের সব সাজানো গল্প তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

  • প্রথমত, মধ্যপ্রদেশ পুলিশ দাবি করে এই অভিযানে রাজস্থান পুলিশ তাদের সঙ্গে ছিল। কিন্তু তদন্তে জানা যায়, স্থানীয় ডাগ থানার পুলিশকে কিছুই জানানো হয়নি। অন্য রাজ্যের সীমানায় ঢুকে কীভাবে এত বড় অভিযান চলল, তার কোনও আইনি জবাব নেই।
  • দ্বিতীয়ত, পুলিশের রেকর্ড বলছে, আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে ভোর ৪টে ৩০ মিনিটে। আর ৫ কোটি টাকার বিপুল মাদক ও মেশিন বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে আরও এক ঘণ্টা পরে। কিন্তু সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারী অফিসার জানতে পারেন, ভোর ৫টা নাগাদই মধ্যপ্রদেশ পুলিশের গাড়ি ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায়। অর্থাৎ, মাত্র আধ ঘণ্টায় পুলিশ সব আইনি কাগজ তৈরি করে ফেলল যা কার্যত আসাম্ভব।
  • তৃতীয়ত, এনডিপিএস (NDPS) আইনের নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের অভিযানের লাইভ ভিডিওগ্রাফি করা বাধ্যতামূলক হলেও কোনও ভিডিওগ্রাফিই করা হয়নি। এমনকি বাজেয়াপ্ত অস্ত্র ও গ্রাইন্ডার মেশিন বাজার থেকে কেনা সম্পূর্ণ নতুন ছিল বলে অভিযোগ।

আদালতের কড়া নির্দেশ, বিপাকে ১০০ পুলিশকর্মী

তদন্ত রিপোর্টে জালিয়াতি ও নথি লোপাটের অকাট্য প্রমাণ পেয়ে ১৩ জুন চৌমহলা আদালত কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। রাজস্থানের ডাগ থানায় আগর কোতোয়ালির এসএইচও শশী উপাধ্যায়, বারোদের এসএইচও রূপ সিং, সাব-ইন্সপেক্টর রাখি গুর্জর, এএসআই অজয় জাট-সহ প্রায় ১০০ জন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে। স্বয়ং রক্ষকই ভক্ষক সেজে এমন জালিয়াতি করায় এখন মুখ পুড়ল মধ্যপ্রদেশ পুলিশের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *