“৫০টি আসনও পাবে না বিজেপি!” বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘ভিত্তিহীন’ উড়িয়ে দিয়ে হুঙ্কার তৃণমূলের

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে সমীক্ষক সংস্থাগুলোর পরস্পরবিরোধী পূর্বাভাস রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। কোনো সংস্থা বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দৌড়ে এগিয়ে রাখলেও, অন্য সংস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই সমীক্ষার ফলাফলকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল।
তৃণমূলের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ও বিজেপির অবস্থান
পি-মার্কের মতো সংস্থা যেখানে বিজেপিকে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসনে জয়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, সেখানে পিপলস পালস বলছে উল্টো কথা। তাদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ১৭৭ থেকে ১৮৭টি আসন পেয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরছে। সমীক্ষার এই বৈচিত্র্য নিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তার দাবি, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সাথে এই সমীক্ষার কোনো মিল নেই। তৃণমূল ২৩৫টির বেশি আসন পাবে এবং বিজেপি ৫০টির গণ্ডিও পেরোতে পারবে না বলে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
অন্যান্য রাজ্যের সমীকরণ ও প্রভাব
বাংলার পাশাপাশি আসাম ও পুদুচেরিতে এনডিএ জোটের পুনরায় ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে এবং কেরালায় দীর্ঘ এক দশক পর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, তারা বুথফেরত সমীক্ষায় বিশ্বাস না করে জনমতের ওপর ভরসা রাখছেন। এই পূর্বাভাসের প্রভাব ভোটারদের ওপর না পড়লেও, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের মনোবল এবং পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে এটি বড় ভূমিকা পালন করছে।
এক ঝলকে
- পি-মার্কের সমীক্ষায় বিজেপি এবং পিপলস পালসের সমীক্ষায় তৃণমূলকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
- তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দাবি, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ৫০টি আসনও পাবে না।
- কেরালা ও তামিলনাড়ুতে ক্ষমতার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষা।
- আগামী ৪ঠা মে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে প্রকৃত জনমত।
