৫০০ কোটির রুপো মাত্র ৩০ কোটির! বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের দানসামগ্রীতে ভয়ংকর জালিয়াতির পর্দাফাঁস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বখ্যাত শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের দানসামগ্রী নিয়ে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি। ভক্তদের দেওয়া প্রায় ২০ টন ওজনের রুপোর অলঙ্কার ও সামগ্রী সরকারি টাঁকশালে প্রক্রিয়াকরণের জন্য পাঠানো হলে এই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। বাজারমূল্য অনুযায়ী যার দাম ৫০০ কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা ছিল, পরীক্ষার পর দেখা যায় তার প্রকৃত মূল্য মাত্র ৩০ কোটি টাকা। ল্যাবে পরীক্ষার পর আধিকারিকরা নিশ্চিত করেছেন যে, দান করা সামগ্রীর মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ ছিল আসল রুপো।
রুপোর আড়ালে বিষাক্ত ধাতুর কারবার
জালিয়াতির ধরণ দেখে তদন্তকারীদের চোখ কপালে উঠেছে। জানা গেছে, রুপোর বদলে এই সামগ্রীগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে সস্তার ক্যাডমিয়াম এবং লোহা। বাজারে যেখানে রুপোর দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে ক্যাডমিয়ামের প্রতি কেজির দাম মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সাধারণ মানুষের পক্ষে খালি চোখে রুপো ও ক্যাডমিয়ামের পার্থক্য বোঝা আসাম্ভব হওয়ায় অসাধু চক্র এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে। এমনকি এই বিষাক্ত ধাতু পোড়ানোর ফলে নির্গত ধোঁয়া ক্যানসার সৃষ্টিকারী হওয়ায় বড়সড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
তদন্তে প্রশাসন ও অসাধু চক্রের খোঁজে তল্লাশি
ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) অনুযায়ী ক্যাডমিয়ামের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের সংলগ্ন করিডোরের কিছু অসাধু বিক্রেতা ভক্তদের এই নকল সামগ্রী বিক্রি করেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর কাঠুয়া গোল্ডস্মিথ অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তল্লাশি এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে ভক্তদের শুধুমাত্র অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকে শুদ্ধতা যাচাই করে সামগ্রী কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে ভক্তদের দান করা ২০ টন রুপোর সামগ্রী গলানোর পর বিপুল জালিয়াতি ধরা পড়েছে।
- ৫০০ কোটি টাকার রুপোর ভাণ্ডারের প্রকৃত মূল্য পাওয়া গেছে মাত্র ৩০ কোটি টাকা।
- রুপোর বদলে দানসামগ্রীতে বিষাক্ত ও নিষিদ্ধ ক্যাডমিয়াম এবং লোহার অস্তিত্ব মিলেছে।
- মন্দিরের আশপাশের অসাধু বিক্রেতাদের চক্র এই প্রতারণার সাথে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
