৬০০ কিমি পথ ‘দণ্ডী’ কেটে পার! ১৯৮ দিন পর পশুপতিনাথ মন্দিরে বিহারের মনোজ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
৬০০ কিলোমিটারের কঠিন পথ পেরিয়ে কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন বাবাধামের সেই অনন্য তীর্থযাত্রী!
ভক্তি ও অবিচল ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য নজির সৃষ্টি করে দীর্ঘ ১৯৬ দিনের কঠিন পথ অতিক্রম শেষে নেপালের কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন ভারতীয় তীর্থযাত্রী মনোজ কুমার যাদব। ঝাড়খণ্ডের বিখ্যাত বৈদ্যনাথধাম (বাবাধাম) থেকে শুরু হওয়া প্রায় ৬০০ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ পথ তিনি কোনো যানবাহনে বা হেঁটে নয়, পার করেছেন সম্পূর্ণ ‘দণ্ডবৎ’ হয়ে। বিহারের বাসিন্দা ৫৪ বছর বয়সী এই পুণ্যার্থী বর্তমানে তাঁর গন্তব্যের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন এবং আগামী রবিবার কাঠমান্ডুর পবিত্র পশুপতিনাথ মন্দিরে পুজো দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় যাত্রার সমাপ্তি টানবেন।
কঠিন সংকল্প ও যাত্রাপথের চ্যালেঞ্জ
প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৩ কিলোমিটার করে দণ্ডবৎ প্রণাম করতে করতে অত্যন্ত ধীর কিন্তু অবিচল গতিতে এগিয়েছেন মনোজ কুমার। গত সাড়ে छह মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যাত্রায় তাঁকে চরম আবহাওয়া, তীব্র শারীরিক ক্লান্তি এবং রাস্তার নানাবিধ প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সমস্ত বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র ভক্তি ও মানসিক শক্তির জোরে তিনি আজ কাঠমান্ডুর জডিবুটি এলাকায় প্রবেশ করেছেন। আগামী শনিবার তিনি কাঠমান্ডুর গৌশালা এলাকায় বিশ্রাম নেবেন বলে জানা গেছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক প্রভাব
ভারত ও নেপালের মধ্যকার প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ককে এই যাত্রা আরও একবার সুদৃঢ় করল। একজন সাধারণ মানুষের এমন কঠোর সাধনা দুই দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিক প্রেরণা জোগাচ্ছে। মনোজ কুমারের এই সফল যাত্রা প্রমাণ করে যে, গভীর বিশ্বাস ও নিষ্ঠা থাকলে যেকোনো আসাম্ভব ও দুর্গম পথকেও জয় করা সম্ভব। আগামী রবিবার সকালে পশুপতিনাথ মন্দিরে তাঁর এই দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য দণ্ডবৎ যাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
এক ঝলকে
- ঝাড়খণ্ডের বৈদ্যনাথধাম থেকে নেপালের পশুপতিনাথ মন্দির পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ দণ্ডবৎ হয়ে পার করেছেন ৫৪ বছর বয়সী মনোজ কুমার যাদব।
- বিহারের বাসিন্দা এই তীর্থযাত্রীর পুরো পথটি অতিক্রম করতে সময় লেগেছে দীর্ঘ ৬ মাস ১৮ দিন (১৯৮ দিন)।
- চরম আবহাওয়া ও শারীরিক ক্লান্তি উপেক্ষা করে তিনি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ দণ্ডবৎ দিয়ে এগিয়েছেন।
- আগামী রবিবার সকালে কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক পশুপতিনাথ মন্দিরে দর্শনের মাধ্যমে তাঁর এই কঠোর ধর্মীয় যাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
