৮০ কেজির ডামি ঝুলিয়ে তিশা শর্মার মৃত্যুরহস্যের কিনারা করতে নামছে সিবিআই – এবেলা

৮০ কেজির ডামি ঝুলিয়ে তিশা শর্মার মৃত্যুরহস্যের কিনারা করতে নামছে সিবিআই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সাবেক মিস পুণে তিশা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এবার ঘটনার পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিশার স্বামী সমর্থ ও শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে সরাসরি তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তিশার ওজনের সমতুল্য একটি ৮০ কেজি ওজনের কৃত্রিম পুতুল বা ডামি ব্যবহার করে পুরো ঘটনার দৃশ্যপট নতুন করে তৈরি করা হবে। মূল উদ্দেশ্য হলো, ঘটনার দিন কীভাবে তিশার ঝুলন্ত দেহ নামানো হয়েছিল, তা অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে প্রামাণ্যভাবে খতিয়ে দেখা।

এর আগে দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গত বৃহস্পতিবার তিশার শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। অন্যদিকে তিশার স্বামী সমর্থ গত সপ্তাহে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। গতকাল শুক্রবার ভোপালের একটি স্থানীয় আদালত এই দুই অভিযুক্তকে আগামী ২ জুন পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের মতে, এই সময়ের মধ্যে ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।

মুখোমুখি জেরা ও ডামি পরীক্ষা

তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তিশার স্বামী সমর্থ দাবি করেছিলেন যে, ঘটনার সময় তিনিই প্রথম তিশাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মেঝেতে নামিয়ে আনেন এবং পরবর্তীতে তাঁর মা গিরিবালা সিং গলার ফাঁস খুলে দেন। সিবিআই এখন ডামি ঝুলিয়ে মা ও ছেলেকে দিয়ে হুবহু সেই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করিয়ে দেখবে। দেহটি ঠিক কীভাবে ঝুলছিল এবং তা নামানোর পুরো বিবরণটি বাস্তবসম্মত কি না, তা যাচাই করা হবে। এর পাশাপাশি মা ও ছেলেকে প্রথমে আলাদাভাবে জেরা করার পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের গরমিল খুঁজতে তাঁদের সামনাসামনি বসিয়ে মুখোমুখি জেরা করার পরিকল্পনাও রয়েছে সিবিআই-এর।

পারিবারিক টানাপোড়েন ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

২০২৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া তিশা তাঁর শ্বশুরবাড়িতে তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা তাঁকে চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিশার বাবা নবনীধি শর্মা সামাজিক চাপ ও মধ্যবিত্ত মানসিকতার কারণে মেয়ের পাশে না দাঁড়িয়ে যে কোনো মূল্যে বিয়ে টিকিয়ে রাখার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাশুড়ির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, তিশার পরিবারই তাঁকে জোর করে বিনোদন জগতে ঠেলে দিয়েছিল। এই টানাপোড়েন ও প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অস্পষ্টতার জেরে পরিবারের আপত্তির মুখে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের পর তিশার দেহ হস্তান্তর করা হয়। এই গভীর রহস্যের জট খুলতেই এখন সিবিআই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক পুনর্নির্মাণের ওপর জোর দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *