অচেনা ভাষাই কাল, কুলতলিতে চোর সন্দেহে পিটিয়ে খুন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে এক মর্মান্তিক ও অমানবিক গণপিটুনির ঘটনায় প্রাণ হারালেন কেরল থেকে আসা এক ব্যক্তি। শুধুমাত্র ভাষার ব্যবধান এবং অমূলক সন্দেহের জেরে এই পরিণতি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। চোর ও ছেলেধরা গুজবে কান দিয়ে ওই ব্যক্তিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই নাবালক-সহ আটজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
ভাষার ব্যবধান ও সন্দেহের জেরে হামলা
জানা গিয়েছে, কাজের সূত্রে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে কেরলের ওই বাসিন্দা কুলতলি থানার সানকিজাহান এলাকায় এসেছিলেন। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় একটি বাজারে যাওয়ার সময় তিনি ভুল করে অচেনা একটি পাড়ায় ঢুকে পড়েন। এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে তাঁকে ঘুরতে দেখে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। তাঁকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ভাষাগত সমস্যার কারণে তিনি নিজের পরিচয় বা আসার কারণ কাউকে বোঝাতে পারেননি। পাশাপাশি স্থানীয়দের ভাষাও তাঁর কাছে পুরোপুরি দুর্বোধ্য ছিল। একে অপরের ভাষা বুঝতে না পারার এই বিভ্রান্তি থেকেই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে উন্মত্ত জনতা তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ব্যাপক মারধর শুরু করে।
উদ্ধারকার্য ও ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব
খবর পেয়ে কুলতলি থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে জয়নগর-কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সমাজমাধ্যমে এই অমানবিক মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ আটজনকে আটক করেছে এবং নিহতের প্রকৃত পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনা সমাজে গুজব ছড়িয়ে পড়া এবং সাধারণ মানুষের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ভয়ানক প্রবণতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। সামান্য ভাষাগত ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটা এমন মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয় স্তরে ভীতি তৈরি করার পাশাপাশি ভিন রাজ্যের মানুষদের সুরক্ষার বিষয়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
