অঝোর কান্নায় অস্থির শিশু, শান্ত করার আগে ৫টি লক্ষণ মিলিয়ে নিচ্ছেন তো! – এবেলা

অঝোর কান্নায় অস্থির শিশু, শান্ত করার আগে ৫টি লক্ষণ মিলিয়ে নিচ্ছেন তো! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

একটি শিশুর মনের ভাষা কিংবা শারীরিক কষ্টের বহিঃপ্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলো তার কান্না। সাধারণত ক্ষুধা, ঘুম বা শারীরিক অস্বস্তির কথা তারা কান্নার মাধ্যমেই জানান দেয়। তবে অনেক সময় দেখা যায় পর্যাপ্ত খাদ্যের জোগান এবং ঘুমের পরেও শিশু একটানা কেঁদে চলেছে। চিকিৎসকদের মতে, অকারণে এই দীর্ঘস্থায়ী কান্নার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর কিছু শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি, যা সময়মতো শনাক্ত করা জরুরি।

অস্বস্তির নেপথ্যে সম্ভাব্য কারণ

শিশুদের কান্নার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পেটে জমে থাকা গ্যাস বা ‘কলিক পেইন’। বিশেষ করে জন্মের প্রাথমিক মাসগুলোতে পরিপাকতন্ত্র পরিপক্ক না হওয়ায় দুধ পানের সময় বাতাস ঢুকে এই যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ ভেজা ডায়াপার ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট র‍্যাশ কিংবা মাড়ি ফুলে দাঁত ওঠার যন্ত্রণায় শিশু ক্রমাগত কাঁদতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত গরম বা শীতের কারণেও তারা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, চারপাশের অতিরিক্ত শব্দ বা কোলাহল শিশুর স্নায়বিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়, যা তাকে কান্নার দিকে ঠেলে দেয়।

প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

অযথা কান্না থামাতে প্রথমেই শিশুর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। শিশুকে খাওয়ানোর পর নিয়মমতো পিঠে হাত বুলিয়ে ঢেকুর তোলালে গ্যাসের সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া ডায়াপার নিয়মিত পরিবর্তন করা এবং ঘরের তাপমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক নির্বাচন করা জরুরি। শিশুর কান্নার সময় তাকে শান্ত ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে রাখা হলে সে দ্রুত স্বস্তি পায়। দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

এক ঝলকে

  • কান্নার ধরন দেখে পেটে গ্যাস বা কলিক পেইনের বিষয়টি নিশ্চিত হোন।
  • ডায়াপার র‍্যাশ বা মাড়ি ফুলে দাঁত ওঠার মতো শারীরিক অস্বস্তিগুলো পরীক্ষা করুন।
  • ঘরের তাপমাত্রা ও অতিরিক্ত কোলাহল শিশুর কান্নার কারণ হতে পারে।
  • দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে নিয়মিত ঢেকুর তোলালে পেটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *