অতিরিক্ত কাতিলা খাচ্ছেন, অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো বড় বিপদ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলতি তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে অনেকেই নানা রকমের শরবত বা পানীয়র ওপর ভরসা রাখছেন। এই তালিকায় ইদানীং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কাতিলা গম বা কাতিলা আঠা। চিকিৎসকদের মতে, শরীর তাৎক্ষণিক ঠান্ডা করা, হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো এবং দেহে আয়রন ও খনিজের ঘাটতি পূরণে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে সঠিক নিয়ম না মেনে বা বাছবিচার ছাড়া কাতিলা খেলে তা শরীরের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
কাতিলা কী ও এর গুণাগুণ
কাতিলা মূলত অ্যাস্ট্রাগালাস নামক গাছ থেকে পাওয়া এক ধরনের প্রাকৃতিক আঠা, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ট্রাগাকান্থ গাম’ নামে পরিচিত। ফ্যাকাশে সাদা বা ক্রিম রঙের এই উপাদানটি জলে ভিজিয়ে রাখলে ১০-১৫ গুণ ফুলে ফেঁপে জেলির রূপ নেয়। এটি একটি প্রাকৃতিক দ্রবণীয় ফাইবার, যাতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে পেটের আলসার, অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালা কমাতে এবং রোদের তীব্রতা থেকে শরীরকে শীতল রাখতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
খাওয়ার ভুল সময় ও এর প্রভাব
উপকারী হলেও খাওয়ার সময় এবং নিয়মের ভুলের কারণে কাতিলা শরীরের ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, রাতে এক গ্লাস জলে এক চামচ কাতিলা ভিজিয়ে রেখে পরদিন দুপুর ১২টার মধ্যে তা খাওয়া সবচেয়ে ভালো। দুপুর ৩টের পর কাতিলা খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, বিকালের পর এটি খেলে শরীরের হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং ঠান্ডা লেগে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। দিনে ১-২ চামচের বেশি কাতিলা খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।
কাদের জন্য এটি ক্ষতিকর
কাতিলা খাওয়ার পর শরীরে পর্যাপ্ত জলের প্রয়োজন হয়। যদি কেউ সঠিক পরিমাণে জল না পান করেন, তবে শরীরে মারাত্মক জলশূন্যতা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এছাড়া, এটি একটি ভেষজ উপাদান হওয়ায় যাদের বিভিন্ন উদ্ভিদে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের কাতিলা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। অ্যালার্জির রোগীরা এটি খেলে শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড়ানির মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বাতের রোগীদের ক্ষেত্রে সকালের জলখাবারের পর এটি আর না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, যাদের সহজেই ঠান্ডা লাগার ধাত রয়েছে, তারা ঠান্ডা লাগা অবস্থায় এটি খাওয়া থেকে বিরত না থাকলে শারীরিক অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
