অনুপ্রবেশকারীদের বাংলা ছাড়ার চরম হুঁশিয়ারি, ঠাকুরনগরে মোদীর গ্যারান্টি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার মতুয়া ধর্ম মহামেলার মাঠে আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটেই শাসক দলের অহঙ্কার চূর্ণ হয়েছে এবং দ্বিতীয় দফার পর রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠন নিশ্চিত। মতুয়াদের আরাধ্য দেবতা হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, মতুয়ারা ভারতের নাগরিকত্ব ও স্থায়ী ঠিকানা পাবেনই, আর এটিই তাঁর আসল ‘গ্যারান্টি’।
অনুপ্রবেশ ও সিএএ নিয়ে কড়া বার্তা
এদিনের সভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, যারা ভুয়ো নথি নিয়ে রাজ্যে বসবাস করছে, তাদের ২৯ এপ্রিলের মধ্যে বাংলা ছাড়তে হবে। অন্যথায় ৪ মে-র পর খুঁজে বের করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিএএ প্রসঙ্গে তৃণমূলের বিরোধিতাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যারা এই আইনের বিরোধিতা করছে তারা মতুয়াদের ভালো চায় না। ভোটারদের সতর্ক করে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলকে ভোট দেওয়া হবে নিজেদের পূর্বপুরুষদের প্রতি অবিচার করা।
আইনশৃঙ্খলা ও সিন্ডিকেট রাজের সমালোচনা
রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও রাজ্য সরকারকে একহাত নেন মোদী। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের আমলে ছোট ছোট নেতারাই নিজেদের সরকার মনে করে এবং সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম চালায়। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এলেও এখন বাংলার মাটি সিন্ডিকেট ও অনুপ্রবেশকারীদের দখলে চলে গিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ডাক দেন তিনি।
এক ঝলকে
- ঠাকুরনগরের সভা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলা ছাড়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
- মতুয়াদের নাগরিকত্ব ও স্থায়ী ঠিকানা দেওয়ার বিষয়ে ‘মোদীর গ্যারান্টি’ পুনর্ব্যক্ত করলেন।
- সিএএ বিরোধী প্রচার নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
- প্রথম দফার ভোটের ফলের ভিত্তিতে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করেন।
