অনুপ্রবেশ রুখতে কাঁটাতারের জন্য স্বেচ্ছায় জমি দিলেন কোচবিহারের চাষিরা – এবেলা

অনুপ্রবেশ রুখতে কাঁটাতারের জন্য স্বেচ্ছায় জমি দিলেন কোচবিহারের চাষিরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিনের অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কোচবিহারের সীমান্ত এলাকার কৃষকরা। দেশের নিরাপত্তা ও নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে সীমান্ত বেড়া বা ফেন্সিং নির্মাণের জন্য স্বেচ্ছায় জমি দান করেছেন জেলার মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের সাতগ্রাম মানবাড়ি এলাকার তিন বাসিন্দা। উপযুক্ত কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অনুপ্রবেশ এবং গবাদি পশু চুরির উপদ্রব থেকে বাঁচতেই গ্রামবাসীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রামবাসীদের বড় পদক্ষেপ

স্থানীয় ভূমিদাতাদের মতে, কাঁটাতার না থাকার সুযোগ নিয়ে সীমান্ত পার হয়ে এসে বাংলাদেশিরা নিয়মিত গবাদি পশু ও কৃষিজাত সামগ্রী চুরি করত। এতে সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিল। নিজের কৃষি জমির ২০ শতাংশ দান করা স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ রায় জানান, এই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হলে গ্রামের পাশাপাশি সমগ্র দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এই উদ্যোগের ফলে সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা দীর্ঘদিনের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাবেন এবং নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারবেন।

নীতিগত পরিবর্তন ও সীমান্ত সুরক্ষায় গতি

সীমান্তের এই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করছে রাজ্য সরকারের নীতিগত পরিবর্তন। মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নবগঠিত রাজ্য সরকার জাতীয় সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর, ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফ-কে ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করেছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে মোট ৬০০ একর জমি হস্তান্তরের একটি বৃহত্তর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও জোরালো করবে।

রাজ্য প্রশাসনের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। সরকারের এই নিবিড় পদক্ষেপের ফলে বিএসএফ ফাঁড়ি নির্মাণ এবং স্মার্ট ফেন্সিংয়ের কাজ গতি পাবে, যা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান চিরতরে বন্ধ করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *