অন্ধ্র প্রদেশে ৫০ টন সোনার খনির সন্ধান ভারতের অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের অভ্যন্তরীণ সোনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। অন্ধ্র প্রদেশের কুর্নুল জেলার জোন্নাগিরি গ্রামে হদিস মিলেছে প্রায় ৫০ টন সোনার এক বিশাল ভাণ্ডারের। স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতে এটিই প্রথম কোনো বৃহৎ বেসরকারি সোনা খনন প্রকল্প, যা দেশের খনিজ ও খনন শিল্পের রূপরেখা পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। জিоমাইসোর সার্ভিসেস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে এই জোন্নাগিরি গোল্ড প্রজেক্টটি সফলভাবে চালু করা হয়েছে। প্রায় ৫৯৮ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই উন্মুক্ত বা ওপেন-পিট খনিটি থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হলে আগামী ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার কিলোগ্রাম বা ১ টন পরিশোধিত সোনা উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে খনি শিল্পের বড় রূপান্তর
ভারতে সোনার চাহিদা অত্যন্ত ব্যাপক হলেও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন না থাকায় এর সিংহভাগই আমদানিনির্ভর। দেশে প্রতি বছর ৮০০ টনেরও বেশি সোনার চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ২০০০ সালে কর্নাটকের বিখ্যাত কোলার গোল্ড ফিল্ডস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে দেশের সোনা উৎপাদন মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কর্নাটকের রাষ্ট্রায়ত্ত হুত্তি গোল্ড মাইন্সই ছিল দেশের একমাত্র সক্রিয় বড় খনি, যেখান থেকে বছরে মাত্র ১.৫ টনের মতো সোনা উৎপাদিত হয়। এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরীণ খনির অভাব এতদিন বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছিল।
অর্থনীতি ও খনিজ খাতে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
জোন্নাগিরি খনির এই বিপুল সোনার ভাণ্ডার ভারতের অভ্যন্তরীণ সোনা উৎপাদনে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে এটি দেশের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটাবে এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য প্রশাসনের মতে, স্থানীয় খনিজ সম্পদের এই সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে অন্ধ্র প্রদেশ শুধু দেশের সোনা উৎপাদনে শীর্ষস্থান দখল করবে না, বরং ভারতের খনিজ শিল্পেও নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এছাড়া এই প্রকল্পের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে রামাগিরি, জাভাকুলা এবং চিগুরুকুন্তা-বিসনাতমের মতো অন্যান্য সম্ভাব্য এলাকাগুলোতেও সোনার খোঁজে বাণিজ্যিক খনন শুরু হওয়ার পথ সুগম হবে।
