অপরাধের নতুন ডার্ক ওয়েব টেলিগ্রাম! আদালতে কেন্দ্র সরকারের বিস্ফোরক দাবি – এবেলা

অপরাধের নতুন ডার্ক ওয়েব টেলিগ্রাম! আদালতে কেন্দ্র সরকারের বিস্ফোরক দাবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হওয়া জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে বিস্ফোরক দাবি করেছে কেন্দ্র সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টেলিগ্রাম এখন অপরাধীদের নতুন ‘ডার্ক ওয়েব’-এ পরিণত হয়েছে। চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, জঙ্গি গোষ্ঠীর অপপ্রচার থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো মারাত্মক সব অপরাধের চারণভূমি হয়ে উঠেছে এই প্ল্যাটফর্মটি। ভারতে টেলিগ্রামের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে অ্যাপ কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে হলফনামা জমা দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে মোদি সরকার।

পরিচয় গোপন রাখার সুযোগেই বাড়ছে অপরাধ

কেন্দ্রের দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, টেলিগ্রাম অ্যাপের উন্নত প্রাইভেসি সেটিংস এবং পরিচয় গোপন রাখার সুবিধাই একে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অপরাধী চক্রের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ব্যবহারকারীরা সহজেই তাদের ফোন নম্বর এবং টেলিগ্রাম আইডি লুকিয়ে রাখতে পারেন। এর ফলে অপরাধীদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাদের অবৈধ গতিবিধি ট্র্যাক করা তদন্তকারীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, অপরাধীরা টেলিগ্রামে দ্রুত এমন কিছু লিংক শেয়ার করছে, যা ব্যবহারকারীদের সরাসরি ডার্ক ওয়েবে নিয়ে যায়। ফলে সাইবার অপরাধ, মাদক পাচার, চাইল্ড পর্ন এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক বিস্তারে এটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁসের ফাঁদ ও সামাজিক প্রভাব

টেলিগ্রামের এই অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের প্রভাব পড়েছে দেশের শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রেও। ন্যাশনাল টেস্টিং एजेंसी (এনটিএ) জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে ‘পেপার লিকড নিট’, ‘রি-নিট ২০২৬’ এবং ‘রি নিট মাফিয়া’র মতো একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেলের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই চ্যানেলগুলো পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা দাবি করে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল। এনটিএ এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে আর্থিক প্রতারণা বলে অভিহিত করলেও, এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

ইন্টারনেটের সাধারণ একটি মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ডার্ক ওয়েবের লিংক এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। বিশেষ করে চাইল্ড পর্ন এবং জঙ্গি এজেন্ডা ছড়ানোর বিষয়টি সামাজিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দিল্লি হাইকোর্টে চলমান এই মামলার রায়ের ওপরই এখন নির্ভর করছে দেশে টেলিগ্রামের ভবিষ্যৎ এবং সাইবার অপরাধ দমনে প্রশাসনের পরবর্তী আইনি কৌশল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *