‘অপারেশন লোটাস’ অতীত! নয়া ‘অপারেশন বেঙ্গল’ মডেলে ছিন্নভিন্ন তৃণমূল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এবার ‘অপারেশন লোটাস’ বা মহারাষ্ট্র মডেল অতীত। বঙ্গ রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করল সম্পূর্ণ নতুন কৌশল ‘অপারেশন বেঙ্গল’! আর এই নয়া রাজনৈতিক কৌশলের জেরে আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে কার্যত ছিন্নভিন্ন হতে বসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দল। কয়েকদিন আগে রাজ্য বিধানসভায় দলের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়েছিল। এবার দিল্লিতে বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে সেই বিদ্রোহ চূড়ান্ত রূপ পেল।
দিল্লিতে গোপন বৈঠক ও পদ্ম-শিবিরের রণকৌশল
সোমবার রাজধানী দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে আচমকাই বৈঠক করেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের একাংশ। রাজনৈতিক মহলের সম্পূর্ণ অগোচরে হওয়া এই বৈঠকে যোগ দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। বিজেপি সূত্রের খবর, এই গোটা ‘অপারেশন বেঙ্গল’-এর নেপথ্যে রয়েছেন পদ্ম শিবিরের তিন শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতা, যাঁরা অত্যন্ত সন্তর্পণে তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভকে সুকৌশলে কাজে লাগিয়েছেন। তবে তৃণমূলের এই ভাঙনকে মহারাষ্ট্রের মডেল মানতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, মহারাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কোনো মিল নেই। রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নেতৃত্বে উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন।
ভাঙনের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিপুল সংখ্যক সাংসদ ও বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও মাত্র এক মাসের মধ্যে তৃণমূলের এই আকস্মিক পতনের মূল কারণ হিসেবে দলের অন্দরে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থাকেই তুলে ধরা হচ্ছে। বিজেপির দাবি, প্রবল জনরোষ ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের চাহিদাই এই পালাবদলের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এই ‘অপারেশন বেঙ্গল’-এর সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। বিক্ষুব্ধ সাংসদ ও বিধায়করা যদি এনডিএ শিবিরে যোগ দেন, তবে মূল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের দলের নাম ও প্রতীক হারাতে পারে বলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, এই নজিরবিহীন ভাঙনের জেরে সর্বভারতীয় স্তরে বিরোধী শিবির বড়সড় ধাক্কা খাবে এবং বাংলার রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাবে।
