অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন পাকিস্তানকে সরাসরি সহায়তার কথা স্বীকার করল চীন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে লস্কর-ই-তৈবার বর্বরোচিত হামলার জবাবে ভারত যখন ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করছিল, তখন পর্দার আড়াল থেকে পাকিস্তানকে সরাসরি প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা জুগিয়েছে বেইজিং। সম্প্রতি দক্ষিণ চীন মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে চীনের এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী ঝাং হেং স্বীকার করেছেন যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা পাকিস্তান সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ রেখায় উপস্থিত থেকে যুদ্ধবিমান ও সরঞ্জাম সচল রাখতে কারিগরি মদত দিয়েছেন।
বেজিংয়ের সরাসরি প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত যখন পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায়, তখন পাকিস্তান তাদের চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি জে-১০ সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল। চীনা প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও তারা পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করে যুদ্ধ সরঞ্জামগুলোর যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখতে কাজ করেছেন। এটিই প্রথমবার যেখানে বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো অভিযানে সরাসরি পাকিস্তানকে সহায়তার কথা স্বীকার করল।
লাইভ ল্যাব হিসেবে পাকিস্তানকে ব্যবহার
ভারতীয় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং জানিয়েছেন, চীন মূলত তাদের অস্ত্রশস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে পাকিস্তানকে একটি ‘লাইভ ল্যাব’ বা জীবন্ত পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে। পাকিস্তানের মোট সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৮১ শতাংশই এখন চীনের সরবরাহকৃত। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চীন শুধুমাত্র অস্ত্র দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং স্যাটেলাইট কভারেজ এবং ইলেকট্রনিক নজরদারির মাধ্যমে ভারতীয় সামরিক গতিবিধির ‘লাইভ আপডেট’ পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণও চীনের এই ভূমিকার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। বেইজিং সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ না নিলেও সাইবার অপারেশন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং তথ্য যুদ্ধের (Information Warfare) মাধ্যমে ইসলামাবাদের হাত শক্ত করছে। ভারতের আকাশসীমা রক্ষাকারী বাহিনী যদিও পাকিস্তানের পিএল-১৫ মিসাইল এবং ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে, তবে দুই প্রতিবেশী দেশের এই সামরিক আঁতাত দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- পহেলগাম হামলার জবাবে ভারত পরিচালিত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন চীন পাকিস্তানকে সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
- চীনা প্রকৌশলীরা পাকিস্তানের জে-১০ সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম সচল রাখতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করেছেন।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীর মতে, পাকিস্তান বর্তমানে চীনের অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাইয়ের একটি ‘লাইভ ল্যাব’-এ পরিণত হয়েছে।
- অভিযানের সময় চীন ভারতকে চাপে ফেলতে স্যাটেলাইট তথ্য ও ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানকে সক্রিয় মদত দিয়েছে।
