অপারেশন সিন্দুর নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলল চীন, পাকিস্তানের সহযোগী হওয়ার কথা কবুল

অপারেশন সিন্দুর নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলল চীন, পাকিস্তানের সহযোগী হওয়ার কথা কবুল

২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। লস্কর-ই-তৈবার সেই হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারানোর জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের অভ্যন্তরে থাকা নয়টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া। সম্প্রতি এই অভিযান নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে চীন স্বীকার করেছে যে, যুদ্ধের সেই উত্তপ্ত মুহূর্তে তারা সরাসরি পাকিস্তানকে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করেছিল।

যুদ্ধের ময়দানে চীনা সমর্থন

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাতে জানা গেছে, চীনের এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়ার ঝাং হেং প্রথমবার জনসমক্ষে পাকিস্তানের অভিযানে তাদের ভূমিকার কথা জানিয়েছেন। হেং এবং তার দল পাকিস্তানের ব্যবহৃত চীনা প্রযুক্তির J-10CE যুদ্ধবিমানগুলোর যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখতে সরাসরি কাজ করেছিলেন। তারা পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত থেকে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ভারতীয় রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার কৌশলগত পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

ভারতীয় সেনাবাহিনী আগেই জানিয়েছিল যে, পাকিস্তান অভিযানে চীনা প্রযুক্তির PL-15 মিসাইল এবং অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করেছিল। ভারতের ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং অভিযোগ করেছেন যে, চীন পাকিস্তানকে ভারতীয় সামরিক স্থাপনার ‘লাইভ আপডেট’ সরবরাহ করেছিল। তার মতে, পাকিস্তান বর্তমানে চীনের জন্য একটি ‘লাইভ ল্যাব’ হিসেবে কাজ করছে, যেখানে তারা ভারতের বিরুদ্ধে তাদের আধুনিক অস্ত্রের সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখছে। বর্তমানে পাকিস্তানের মোট সামরিক হার্ডওয়্যারের প্রায় ৮১ শতাংশই চীনের সরবরাহ করা।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব

চীনের এই সরাসরি স্বীকৃতির ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও চীন স্যাটেলাইট কভারেজ এবং ইলেকট্রনিক নজরদারির মাধ্যমে পাকিস্তানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে। বেইজিংয়ের এই ধরণের সামরিক পক্ষপাতিত্ব ভারতের সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে যে কোনো দ্বিপাক্ষিক সংঘাতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এক ঝলকে

  • ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন চীন পাকিস্তানকে সরাসরি কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
  • চীনা ইঞ্জিনিয়াররা পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করে J-10CE যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন।
  • পাকিস্তানের ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জামের ৮১ শতাংশই এখন চীনের তৈরি, যা ভারতের জন্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
  • গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট ইমেজ শেয়ার করার মাধ্যমে বেইজিং যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *