অবশেষে অপেক্ষার অবসান! রাজ্যজুড়ে ঢুকল বর্ষা, কোন জেলাগুলিতে নামবে অতি ভারী বৃষ্টি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তীব্র দহনজ্বালা জুড়িয়ে অবশেষে বাংলায় বর্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রবেশ ঘটেছে। শুক্রবার আলিপুর আবহাওয়া দফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের বাকি অংশের পাশাপাশি কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলাতেই মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কেবল পুরুলিয়া জেলার ঝাড়খণ্ড-সংলগ্ন কয়েকটি সীমান্ত এলাকা ছাড়া সমগ্র রাজ্যজুড়েই এখন বর্ষার আবহ। সাধারণত দক্ষিণবঙ্গে ১০ জুনের মধ্যে বর্ষা আসে, সেই তুলনায় এ বছর মাত্র দুদিন দেরিতে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, নির্ধারিত সময়ের সাতদিন আগে বা পরে বর্ষার আগমনকে স্বাভাবিক হিসেবেই গণ্য করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের বেশ কিছু অঞ্চলেও মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
উত্তরবঙ্গে কমলার সতর্কতা ও দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন রাজ্যের অধিকাংশ জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। কিছু কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং দমকা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সংলগ্ন জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় সেখানে ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে এখনই অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও, শুক্রবার বিভিন্ন জেলায় স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ায় ঝড়বৃষ্টির জেরে সাময়িক সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় হুগলির তারকেশ্বরে সর্বোচ্চ ৮৫.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুরের দুর্গাচক, মালদহ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং বর্ধমানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও ৬০ থেকে ৬৬ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে।
স্বস্তির আবহাওয়া ও কৃষি খাতে আশার আলো
টানা বৃষ্টির প্রভাবে রাজ্যজুড়ে গত কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরম ও তাপপ্রবাহের তীব্রতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। কলকাতায় শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম। এই মনোরম আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘদিনের অস্বস্তি কাটিয়ে শহর ও গ্রামীণ জনপদের বাসিন্দারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। মৌসুমি বায়ুর এই সময়োপযোগী আগমন এবং রাজ্যব্যাপী বৃষ্টিপাতের ফলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলর স্তর স্বাভাবিক হবে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে আমন ধান চাষের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও অন্যান্য খরিফ শস্যের বপন প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পাবে, যা সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
