অবশেষে কাটল দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা, রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশনের ঐতিহাসিক ঘোষণা – এবেলা

অবশেষে কাটল দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা, রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশনের ঐতিহাসিক ঘোষণা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে অবশেষে রাজ্যে চালু হতে চলেছে সপ্তম বেতন কমিশন। সোমবার নবগঠিত সরকারের দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠকের পর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার এই পদক্ষেপকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি বড়সড় আর্থিক উপহার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য সরকারি কর্মী, বিভিন্ন বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে।

বেতন কাঠামোর সংস্কার ও কেন্দ্রীয় সামঞ্জস্য

নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর অন্তর সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো সংস্কার করার কথা থাকলেও পূর্বতন সরকারের আমলে তা নিয়ে বিস্তর জটিলতা তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই দেশে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করেছিল, যার ফলে এতদিন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতনের মধ্যে একটি বড়সড় ফারাক তৈরি হয়েছিল। এই বৈষম্য দূর করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়েছেন এ রাজ্যের কর্মচারীরা। গত ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন কমিশনের জন্য অপেক্ষা বাড়ছিল। মন্ত্রিসভার এই অনুমোদনের ফলে এবার ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ নির্ধারণের মাধ্যমে কর্মচারীদের মূল বেতন এক ধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে প্রত্যাশা

সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের এই সিদ্ধান্ত কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটালেও, এদিনের বৈঠকে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট জানান যে, এদিনের ক্যাবিনেট মিটিংয়ের এজেন্ডায় ডিএ সংক্রান্ত বিষয়টি ছিল না, তবে আগামী দিনে নিশ্চিতভাবেই এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার দাবিতে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন এবং প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছেন রাজ্যের কর্মীরা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সপ্তম বেতন কমিশন চালুর এই দ্রুত পদক্ষেপ কর্মচারীদের মনে নতুন আশার আলো জুগিয়েছে এবং তাঁরা আশা করছেন যে আগামী দিনে তাঁদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ-র দাবিও দ্রুত মিটে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *