অভিশপ্ত নয়, আশীর্বাদ! যেখানে বলি দিলেও ঝরে না এক ফোঁটা রক্ত; জানুন মুণ্ডেশ্বরী মন্দিরের রহস্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিহারের কাইমুর জেলার পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত মা মুণ্ডেশ্বরী মন্দির বর্তমানে ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও জীবন্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরটি কেবল তার অনন্য স্থাপত্যের জন্যই নয়, বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা ‘রক্তহীন বলি’র এক বিস্ময়কর প্রথার কারণে পর্যটক ও গবেষকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, দ্বিতীয় শতাব্দীর এই মন্দিরটি প্রাচীন ভারতের শক্তি সাধনা ও স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য মেলবন্ধন।
রক্তহীন বলির অলৌকিক প্রথা
এই মন্দিরের সবচেয়ে রহস্যময় দিক হলো এর বলিদান পদ্ধতি। সাধারণ বলির মতো এখানে প্রাণিহত্যা বা রক্তপাত করা হয় না। পরিবর্তে, মা মুণ্ডেশ্বরীর মূর্তির সামনে নির্দিষ্ট মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে একটি পাঁঠার ওপর পবিত্র জল ও চাল ছিটিয়ে দেওয়া হয়। অলৌকিকভাবে সেই মুহূর্তে প্রাণীটি অচেতন হয়ে পড়ে এবং বলির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিছুক্ষণ পর পুনরায় মন্ত্রপাঠ করলে প্রাণীটি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কোনো প্রকার আঘাত বা রক্তপাত ছাড়া এই বলির রীতি স্থানীয়দের কাছে দেবীর জীবন্ত উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
স্থাপত্য ও ইতিহাসের গুরুত্ব
অষ্টভুজাকৃতির এই মন্দিরের নির্মাণশৈলী অত্যন্ত বিরল, যা মূলত গুপ্তযুগের স্থাপত্যরীতির কথা মনে করিয়ে দেয়। পাথরে খোদাই করা দেব-দেবীর মূর্তি এবং কারুকার্যময় গম্বুজ মন্দিরটিকে একটি অতিপ্রাকৃত রূপ দান করেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, এই স্থানটি একসময় তন্ত্র সাধনার প্রধান কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে বিহার সরকার মন্দিরটিকে ঘিরে পর্যটন উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়ায় এর গুরুত্ব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এক ঝলকে
- বিহারের কাইমুর জেলায় অবস্থিত ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও ২ হাজার বছরের পুরনো মন্দির।
- কোনো প্রাণিহত্যা বা রক্তপাত ছাড়াই এখানে প্রতীকী ও অলৌকিক বলির প্রথা প্রচলিত।
- মন্দিরের গঠনশৈলী বিরল অষ্টভুজাকৃতির এবং এটি প্রাচীন স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।
- ধর্মীয় বিশ্বাস ও রহস্যময় ঐতিহ্যের কারণে এটি বর্তমানে একটি প্রধান পর্যটন ও তীর্থস্থলে পরিণত হয়েছে।
