অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিতের ঘনিষ্ঠ যুবককে ‘অপহরণ’! পুলিশের পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ – এবেলা

অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিতের ঘনিষ্ঠ যুবককে ‘অপহরণ’! পুলিশের পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ব্যান্ডেল: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের ঘনিষ্ঠ এক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ব্যান্ডেলের কেওটা রাধারানি কলোনি থেকে পলাশ চক্রবর্তী নামে ওই যুবককে তুলে নিয়ে যায় কয়েক জন ব্যক্তি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কীভাবে ঘটল ঘটনা?

পলাশের পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত এগারোটা নাগাদ ইংরেজিতে ‘পুলিশ’ লেখা একটি সাদা রঙের গাড়ি করে পাঁচ-ছয় জন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে আসে। পরিবার সূত্রে খবর, কোনো পরিচয়পত্র না দেখিয়েই তারা পলাশকে গাড়ি করে তুলে নিয়ে যায়। পলাশের বাবা প্রদীপ চক্রবর্তী জানান, ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ছেলের কোনো হদিস পাননি তাঁরা। তবে রহস্যজনকভাবে, এত বড় ঘটনা ঘটার পরেও পরিবার কেন স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

কারা এই ব্যক্তিরা?

তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে শালবনি থানার পুলিশ বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে রয়েছে। সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে এবং তাঁর নামে জারি হয়েছে লুক-আউট নোটিস। সুমিতের সাথে পলাশের ঘনিষ্ঠতা থাকায় ঘটনার পর শালবনি থানায় যোগাযোগ করা হলে, তারা এই ঘটনার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। এমনকি সিআইডি (CID)-র সূত্রেও পলাশকে হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য মেলেনি।

কে এই পলাশ চক্রবর্তী?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পলাশ একসময় ছাত্র রাজনীতি করতেন এবং শ্রীরামপুর কলেজের জিএস ছিলেন। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত পলাশ গত বছর পাড়ার ক্লাবের দুর্গোৎসবে বড় অঙ্কের টাকা স্পনসর করেছিলেন।

সাংসদের আপ্ত সহায়ক সুমিতের ওপর পুলিশের চাপ বাড়ার পরেই তাঁর ঘনিষ্ঠ এক যুবকের এহেন ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ঘটনায় রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। আসল পুলিশ না অন্য কেউ? সবটাই এখন প্রশ্নের মুখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *