অভিষেক একা দলকে ডোবায়নি, দলবদলের পরেও মমতার প্রশংসায় সুদীপ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিন লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ হিসেবে কাজ করা প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই দলবদলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার নয়াদিল্লিতে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের নতুন মঞ্চে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবার মুখ খোলেন কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের এই সাংসদ। তবে শিবির বদল করলেও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা যে অটুট রয়েছে, তা তিনি নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
মমতার প্রতি শ্রদ্ধা ও অভিষেকের পাশে সুদীপ
রাজনৈতিক অবস্থান পাল্টালেও মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে নারাজ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তিনি কাজ করেছেন এবং নির্বাচনের সময় যাঁকে তিনি ‘মা দুর্গা’ বলে সম্বোধন করেছেন, পরিস্থিতি বদলালেও তাঁর বিরুদ্ধে হঠাৎ আক্রমণ শানানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে, তৃণমূলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য দলের একাংশ যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌশলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেল সুদীপের গলায়। তিনি স্পষ্ট জানান, এত বড় একটি রাজনৈতিক দলের পরাজয়ের জন্য কোনও একজন ব্যক্তিকে এককভাবে দায়ী করা সম্পূর্ণ ভুল। তাঁর মতে, একজন নেতা একা কখনও গোটা দলকে শেষ করে দিতে পারেন না।
পরাজয়ের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দলের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জমে থাকা দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকেই দায়ী করেছেন। পাশাপাশি, তাঁর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, নির্বাচনের একেবারে শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক কার্যত তৃণমূলের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। প্রবীণ এই সাংসদের দলবদল এবং দলের অভ্যন্তরীণ কৌশল নিয়ে তাঁর এই খোলামেলা মূল্যায়ন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর ফলে তৃণমূলের অন্দরে যেমন অস্বস্তি বাড়তে পারে, তেমনই আগামী দিনের সাংগঠনিক রদবদল ও রাজনৈতিক রণকৌশল নির্ধারণে এই ঘটনা গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
