অযোধ্যার রাম মন্দিরে বিপুল অর্থ তছরুপের প্রমাণ পেল সিট! প্রস্তাব তিরুপতি মডেলের – এবেলা

অযোধ্যার রাম মন্দিরে বিপুল অর্থ তছরুপের প্রমাণ পেল সিট! প্রস্তাব তিরুপতি মডেলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদান আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট। মঙ্গলবার লখনউয়ে উত্তরপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের কাছে এই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার এখনই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও তদন্ত প্রক্রিয়া যে অব্যাহত থাকবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের এই সিট ইতিমধ্যেই তদন্তের সাপেক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ হাতে পেয়েছে।

তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য ও সুপারিশ

সূত্রের খবর, রাম মন্দিরের দানপাত্রের অর্থ তছরুপের অভিযোগের স্বপক্ষে অকাট্য প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এর ভিত্তিতে দানপাত্রের পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কর্মীকে অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে সিট। একইসঙ্গে, ইতিমধ্যেই আটক হওয়া দুই কর্মীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিটের রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাম মন্দিরের মতো ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে যেখানে প্রতিদিন কোটি টাকার কাছাকাছি অনুদান জমা পড়ে, সেখানে হিসাবরক্ষার বর্তমান পদ্ধতিটি অত্যন্ত সেকেলে এবং দুর্বল।

ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও সমাধানের পথ

প্রতিদিন লক্ষাধিক এবং উৎসবের দিনগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয় অযোধ্যায়। নগদ অর্থের পাশাপাশি অনলাইনে মোটা অঙ্কের টাকা এবং সোনাদানার মতো মূল্যবান অলংকারও দান করেন পুণ্যার্থীরা। কিন্তু সিটের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে, এই বিপুল অর্থ প্রতিদিন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গণনা বা অলংকারের প্রকৃত মূল্য যাচাই করার কোনও আধুনিক পরিকাঠামো মন্দির কর্তৃপক্ষের নেই। এই দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণেই অর্থ তছরুপের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতের দুর্নীতি রুখতে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি মন্দিরের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে সিট। তিরুপতি মডেল অনুসরণ করে রাম মন্দিরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও রাজ্য সরকারের তরফে ডেপুটেশনে একজন পদস্থ আইএএস অফিসারকে চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) হিসেবে নিয়োগ করার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *