‘অসভ্যরা নরম ভাষা বোঝে না!’ হিমন্তের পোস্ট নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ, তলব করা হল ভারতীয় দূতকে

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্যে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাঢেকে তলব করে নিজেদের অসন্তোষ ও কড়া বার্তা স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কূটনৈতিক প্রতিবাদ ও ঢাকার অবস্থান
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ইশরাত জাহান ভারতীয় দূতের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং ঢাকার আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরেন। বাংলাদেশের দাবি, জনসমক্ষে দেওয়া এ ধরনের মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মূলে আঘাত করতে পারে। যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত বিবৃতি জারি করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে যে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে সংযম বজায় রাখার জন্য ভারতকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ও হিমন্তের বক্তব্য
বিতর্কের মূলে রয়েছে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এর একটি পোস্ট। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, আসাম থেকে ২০ জন বিদেশি নাগরিককে ধরে পুনরায় বাংলাদেশের সীমান্তে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই সময় তিনি অনুপ্রবেশকারীদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, “অসভ্য লোক নরম ভাষা বোঝে না।” তাঁর এই আক্রমণাত্মক সুর এবং ‘পুশ-ব্যাক’ প্রক্রিয়াকে জনসমক্ষে প্রচার করার বিষয়টিকেই বাংলাদেশ অপমানজনক হিসেবে দেখছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
ঢাকা মনে করে, প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কড়া বক্তব্য পারস্পরিক আস্থায় চিড় ধরাতে পারে এবং জটিল দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো সমাধানের পথ রুদ্ধ করতে পারে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অনুপ্রবেশের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো জনসমক্ষে না এনে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এক ঝলকে
- অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া প্রতিবাদ।
- ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাঢেকে তলব করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ঢাকা।
- হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ২০ জনকে ফেরত পাঠানোর তথ্য জানিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন।
- সংবেদনশীল বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ।
