অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে রাহুলের কাছে হাতজোড় করতে হবে মমতাকে, তীব্র কটাক্ষ অধীরের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোটের আহ্বানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর বাম, অতিবাম ও জাতীয় দলগুলোকে একজোট হওয়ার যে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তাকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করতেই এখন কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধীর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া তৃণমূল নেত্রীর কাছে অন্য কোনো পথ খোলা নেই।
জোটের আহ্বান ও অধীরের পাল্টা তোপ
তৃণমূল নেত্রী সম্প্রতি ঘোষণা করেছিলেন যে বিজেপিকে রুখতে তিনি যে কোনো শক্তির সাথে কাজ করতে রাজি এবং এ বিষয়ে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত অহং বা ‘ইগো’ নেই। এমনকি প্রতিদিন বিকেলে আলোচনার জন্য সময়ও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। মমতার এই নমনীয় অবস্থানকে ‘হতাশা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অধীর চৌধুরী। তাঁর মতে, বিপদে পড়েই এখন ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে সকলকে ডাকছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও যোগ করেন, অতীতের মতো পরিস্থিতি আর নেই এবং অদূর ভবিষ্যতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করেই দাঁড়াতে হবে।
সম্পত্তি নিয়ে অভিষেককে আক্রমণ
রাজনৈতিক জোটের পাশাপাশি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি ও জীবনযাত্রা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেছেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ। অভিষেকের বাসভবনকে ‘মিউজিয়াম’ বা জাদুঘরের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কীভাবে প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করা যায়, তা সেখানে গেলেই বোঝা যায়। অধীরের হুঁশিয়ারি, ভ্রাতুষ্পুত্রের মতো খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িও অচিরেই সাধারণের দেখার জন্য জাদুঘরে পরিণত হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর তৃণমূলের এই জোটের প্রস্তাব আসলে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের একটি কৌশল। অন্যদিকে, অধীর চৌধুরীর এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের সমীকরণ যাই হোক না কেন, রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে তিক্ততা কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বাম নেতৃত্বও মমতার এই প্রস্তাবকে গুরুত্ব না দিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করায় রাজ্যে বিজেপি-বিরোধী একক মঞ্চ গঠনের প্রক্রিয়া বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। এই পরিস্থিতির জেরে আগামী দিনে রাজ্যের ত্রিস্তরীয় রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
