অস্ত্র প্রতিযোগিতার মহোৎসবে বিশ্ব, ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের বারুদে কি তবে মহাপ্রলয়ের সংকেত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে শান্তির সুবাতাসের বদলে এখন বারুদের গন্ধ তীব্র হচ্ছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সামরিক খাতে ব্যয়ের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ভেঙে ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। টানা ১১ বছর ধরে এই ব্যয়ের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ প্রমাণ করছে যে, আলোচনার টেবিলের চেয়ে অস্ত্রাগার সমৃদ্ধ করতেই এখন বেশি আগ্রহী ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো।
ত্রিশক্তির সামরিক উন্মাদনা
বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি খরচ করছে মাত্র তিনটি দেশ— আমেরিকা, চীন এবং রাশিয়া। ৯৫৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে তালিকার শীর্ষে থাকা ওয়াশিংটন বর্তমানে কিছুটা খরচ কমালেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেটে তা ১.৫ ট্রিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, তিন দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে সক্ষমতা বাড়ানো চীন খরচ করেছে ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়া তাদের জিডিপির ৭.৫ শতাংশ বা ১৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে প্রতিরক্ষায়, যা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অস্থির ইউরোপ ও এশিয়ার রণসজ্জা
নিরাপত্তার প্রশ্নে এখন আর কেউ অন্যের ওপর ভরসা করতে রাজী নয়। ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের রক্ষা করতে এখন স্বাবলম্বী হওয়ার পথে হাঁটছে। জার্মানি তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট ২৪ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছে। এশিয়ায় চীনের প্রভাব রুখতে জাপান ও তাইওয়ানও পাল্লা দিয়ে অস্ত্র কিনছে। মধ্যপ্রাচ্যে মুদ্রাস্ফীতি ও যুদ্ধের কারণে প্রকৃত ব্যয় বিশ্লেষণে ভিন্নতা থাকলেও ইসরায়েলের সামরিক খরচ ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৯৭ শতাংশ বেড়েছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জনকল্যাণ বনাম মারণাস্ত্রের লড়াই
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব এখন বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে অনিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। দেশগুলোর এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের এই বিশাল অংক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কমিয়ে দিচ্ছে। শক্তির ভারসাম্য রক্ষার এই ইঁদুর দৌড় শেষ পর্যন্ত পৃথিবীকে কোনো বড় ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় কি না, সেই আশঙ্কাই এখন প্রবল হচ্ছে।
এক ঝলকে
- বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় রেকর্ড ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
- মোট খরচের অর্ধেকই করছে আমেরিকা, চীন ও রাশিয়া।
- জার্মানি ও জাপানের মতো দেশগুলো নজিরবিহীনভাবে বাজেট বাড়িয়েছে।
- জনকল্যাণমূলক খাতের অর্থ কাটছাঁট করে অস্ত্র কেনায় ঝুঁকছে রাষ্ট্রগুলো।
