অ্যাকাউন্টে সামান্য টাকা আর মাথা গোঁজার নিজস্ব ঠাঁই নেই! চর্চায় দমদম উত্তরের বাম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠতেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ১১০ নম্বর দমদম উত্তর কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী দীপ্সিতা ধর। বাম রাজনীতির এই তরুণী তুর্কি চব্বিশের লোকসভা এবং একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর এবার শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে লড়াই করছেন। সম্প্রতি কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্যানুযায়ী, সম্পত্তির নিরিখে তিনি এখনও রাজ্যের অন্যতম ‘দরিদ্র’ প্রার্থীদের তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছেন।
মনোনয়নপত্রের খতিয়ান অনুযায়ী, দীপ্সিতা ধরের হাতে নগদ রয়েছে মাত্র ২৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন ব্যাঙ্কে গচ্ছিত আমানত এবং সঞ্চয় মিলিয়ে তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫.৩৫ লক্ষ টাকা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বর্তমানে অনেক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে যখন অঢেল সম্পত্তির পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠছে, সেখানে এই পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থীর নিজস্ব নামে কোনো বাড়ি, ফ্ল্যাট বা চাষযোগ্য জমি নেই। অর্থাৎ, স্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান কার্যত শূন্য। মূলত গবেষণার ফেলোশিপ এবং ব্যাঙ্কের সুদই তাঁর আয়ের প্রধান উৎস।
সম্পত্তির খতিয়ান সামান্য হলেও শিক্ষাগত যোগ্যতায় দীপ্সিতা অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিককে টেক্কা দিতে পারেন। আশুতোষ কলেজ থেকে ভূগোলে স্নাতক হওয়ার পর তিনি দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) থেকে স্নাতকোত্তর ও এম.ফিল সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে জনসংখ্যা ভূগোলে পিএইচডি প্রাপ্ত। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি ফৌজদারি মামলা থাকলেও, ব্যক্তিগত কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।
উচ্চশিক্ষা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করেই এবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন দীপ্সিতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহরাঞ্চলে যুব ভোটারদের প্রভাবিত করতে সিপিএম এই শিক্ষিত মুখকে গুরুত্ব দিচ্ছে। যেখানে কোটিপতি প্রার্থীদের ভিড়ে ভোটাররা নাজেহাল, সেখানে এক ‘সর্বহারা’ প্রার্থীর এই সাধারণ জীবনযাপন ও লড়াকু মানসিকতা দমদম উত্তরের ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে জনমানসে।
