আইটিআর ফাইল করার ঝঞ্ঝাট শেষ! আয়কর রিটার্নের আগে হাতের কাছে রাখুন এই জরুরি নথির চেকলিস্ট – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: প্রতি বছর নিয়ম করে আয়কর রিটার্ন (ITR) ফাইল করা অনেকের কাছেই বেশ ঝামেলার কাজ বলে মনে হয়। কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি আর আগে থেকে নথি গুছিয়ে রাখলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত সহজ। আয়কর দফতর যেহেতু প্রত্যেকের আর্থিক লেনদেন বা ফিনানশিয়াল ফুটপ্রিন্টের উপর কড়া নজরদারি রাখে, তাই হিসেব মিলিয়ে সময়মতো আয়কর দিয়ে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আয়করের ই-ফাইলিং শুরু করার আগে কোন কোন নথি আপনার হাতের কাছে রাখতেই হবে, দেখে নিন তার একটি কমপ্লিট চেকলিস্ট:
প্রাথমিক ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি:
- প্যান কার্ড (PAN Card): আয়কর রিটার্ন দাখিল করার জন্য এটি সবচেয়ে অপরিহার্য নথি।
- আধার কার্ড (Aadhaar Card): আধার কার্ডের সঙ্গে প্যান কার্ড লিঙ্ক করা থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি আধারের সঙ্গে মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত থাকতে হবে, কারণ রিটার্ন ই-ভেরিফাই (e-verify) করার ওটিপি এই নম্বরেই আসবে।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ: আয়কর দাখিলের সময় অ্যাক্টিভ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং সেগুলির IFSC কোড প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্টকে ‘প্রাইমারি’ হিসেবে বেছে নিতে হবে, কারণ কোনো ট্যাক্স রিফান্ড থাকলে তা এই অ্যাকাউন্টেই জমা হবে।
ই-ফাইলিং পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত নথি:
- Annual Information Statement (AIS): এই নথিতে গোটা অর্থবর্ষের যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের হিসেব থাকে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সুদ, ডিভিডেন্ড, শেয়ার বাজারের লাভ-ক্ষতিসহ আয়ের সব উৎসের বিবরণ এখানে পাওয়া যায়। এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ হলো TIS।
- Form 26AS: করদাতার কেটে নেওয়া TDS, TCS এবং কোনো অ্যাডভান্সড ট্যাক্স দেওয়া হয়ে থাকলে তার সমস্ত হিসেব এই নথিতে থাকে।
চাকরিজীবী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নথি:
- Form 16: চাকরিজীবীদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি নথি, যা নিয়োগকারী সংস্থার তরফে দেওয়া হয়। এর পার্ট-এ এবং পার্ট-বি মিলিয়ে মোট বেতন, কর ছাড়, কেটে নেওয়া TDS এবং ইনভেস্টমেন্টের যাবতীয় তথ্য থাকে। প্রয়োজনে স্যালারি স্লিপও কাছে রাখতে পারেন।
- Capital Gains Statements: যাঁরা স্টক মার্কেট বা মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি করেন, তাঁদের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের লাভ-ক্ষতির হিসেব রাখার জন্য এটি প্রয়োজন।
- অন্যান্য নথি: জমি-বাড়ি বা রিয়েল এস্টেট বিক্রির নথি, ইন্টারেস্ট সার্টিফিকেট, ডিভিডেন্ট স্টেটমেন্ট এবং বাড়ি ভাড়া থেকে আয়ের বিবরণ।
- ব্যবসায়ীদের জন্য: লাভ-ক্ষতির স্টেটমেন্ট, ব্যবসার ব্যালেন্স শিট এবং GST ফাইলিংয়ের নথি।
ট্যাক্স রেজিম ও কর ছাড়ের নথি:
যদি আপনি পুরোনো ট্যাক্স রেজিমে (Old Tax Regime) আয়কর দাখিল করেন, তবে কর ছাড়ের সুবিধা পেতে 80C এবং 80D ধারার নথিগুলো গুছিয়ে রাখুন। এর মধ্যে রয়েছে পিপিএফ, ELSS মিউচুয়াল ফান্ড, জীবনবিমা, সন্তানদের টিউশন ফি, NSC শংসাপত্র, স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম এবং হোম লোনের নথি।
জরুরি টিপস: আয়কর রিটার্ন শেষ পর্যন্ত সাবমিট করার আগে AIS এবং Form 26AS-এর তথ্যের সঙ্গে আপনার Form 16-এর তথ্য ভালো করে মিলিয়ে নিতে ভুলবেন না।
