আইনি সুরক্ষা খোয়াচ্ছে মেটা? কড়া অবস্থানের পথে কেন্দ্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 17, 20262:10 pm
টাকার বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দেখানো এবং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করার কারণে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অভিভাবক সংস্থা ‘মেটা’র আইনি সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)।
তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর ৭৯ ধারা অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মগুলি ‘সেফ হারবার’ বা ব্যবহারকারীদের বিতর্কিত কনটেন্টের দায় থেকে আইনি ছাড় পায়। তবে কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের বক্তব্য, মেটা এখন আর স্রেফ ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ বা মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং কনটেন্ট দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করায় এটি একটি ‘সার্ভিস প্রোভাইডার’। যখন একটি সংস্থা প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট দেখানোর জন্য টাকা নেয়, তখন সে আর নিরপেক্ষ থাকে না। মেটা তাদের সেফ হারবার আইনি সুরক্ষা বজায় রাখতে পারবে কি না, তা চূড়ান্তভাবে আদালত স্থির করবে।
বিবিসি আই-এর বিস্ফোরক রিপোর্ট ও মেটার অবস্থান সম্প্রতি ‘বিবিসি আই’-এর একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে দেখা যায়, ভারতে ইনস্টাগ্রাম এমন কিছু স্পর্শকাতর কি-ওয়ার্ডের বিজ্ঞাপনী লিংক দেখাচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের সরাসরি শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট (CSAM) কেনাবেচার টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনার পর মেটা এতদিন আমেরিকার ‘NCMEC’-কে রিপোর্ট করলেও, এখন থেকে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ‘I4C’ সাইবার ক্রাইম পোর্টালে সরাসরি তথ্য জমা দিতে সম্মত হয়েছে।
জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনে হাজিরা ঘটনার তদন্তে মেটা ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণ শ্রীনিবাসকে সশরীরে তলব করে জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (NCPCR)। কমিশনের চেয়ারম্যান ভালেটি প্রেমচাঁদের নেতৃত্বে প্রায় ৭০ মিনিটের এক কড়া শুনানিতে মেটা প্রধানকে শপথ নিয়ে (under oath) সাক্ষ্য দিতে হয়।
কমিশনের মূল অভিযোগ ও নির্দেশ:
- পকসো আইনের লঙ্ঘন: পকসো (POCSO) আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী শিশু নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলেও পুলিশকে না জানানোর বিষয়ে মেটাকে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে।
- এআই টুলের ব্যর্থতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কীভাবে এসব অবৈধ কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তার সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হন মেটা প্রধান।
- চূড়ান্ত সময়সীমা: মেটাকে তাদের বিস্তারিত অবস্থান ও প্রমান জমা দেওয়ার জন্য ২ সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছে কমিশন।
