আই-প্যাকের ডানা ছেঁটে এবার সরাসরি মাঠের কর্মীদের কাছে ফিরছেন মমতা ও অভিষেক! – এবেলা

আই-প্যাকের ডানা ছেঁটে এবার সরাসরি মাঠের কর্মীদের কাছে ফিরছেন মমতা ও অভিষেক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনের পর দুই মাস পার হতে না হতেই দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চরম বিপর্যয় থেকে দলকে পুনর্গঠন করতে এবং তৃণমূলের হারিয়ে যাওয়া রাশ পুনরায় শক্ত হাতে ধরতে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছেন দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন বাহ্যিক পরামর্শদাতা সংস্থার উপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে।

আই-প্যাকের ভূমিকা সংকোচন ও ক্যাডারভিত্তিক কাঠামোয় প্রত্যাবর্তন তৃণমূলের নতুন এই সংশোধনমূলক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের (I-PAC) ডানা ছাঁটাই করা। দলের একাংশের মতে, বিগত বছরগুলোতে বাহ্যিক এই কর্পোরেট সংস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে দলের নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক চরিত্র মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ২০১৯ সালের আগে যেখানে দলের মাত্র ২০ শতাংশ কাজ আউটসোর্স করা হতো, পরবর্তী সময়ে তা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ভরাডুবির পর দলের বিদ্রোহী ও অনুগত—উভয় শিবিরের নেতারাই আই-প্যাকের কাজের পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। ফলে, বাহ্যিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দলকে আবারও পুরনো ‘ক্যাডারভিত্তিক’ রাজনৈতিক কাঠামোয় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিবর্তনের অংশ হিসেবে তৃণমূল চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নীচুতলার কর্মীদের সঙ্গে নিজেদের যোগাযোগ বাড়াবেন। এখন থেকে রবিবার বাদে প্রতিদিন কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন সংলগ্ন কার্যালয় সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের জন্য খোলা থাকবে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি মানুষের মুখোমুখি হবেন। পাশাপাশি কলকাতার মূল তৃণমূল ভবনেও একটি নতুন সর্বাধুনিক জনসংযোগ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন ও সরাসরি বার্তা বিনিময়ে সাহায্য করবে।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি নির্বাচনোত্তর পর্বে দলের অভ্যন্তরে চলমান চোরা বিদ্রোহ এবং শীর্ষ নেতাদের পরিবার ও শিবিরের পারস্পরিক বিরোধ প্রকাশ্যে আসায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও কৌশল বদলেছে কালীঘাট। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কিংবা কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতাদের ঘরে-বাইরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে দল তড়িঘড়ি কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে ‘ধীরে চলো’ বা ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি গ্রহণ করেছে। গুরুতর কোনো পরিস্থিতি না তৈরি হলে কাউকেই শোকজ বা বহিষ্কার করা হচ্ছে না। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ এড়াচ্ছে। অভ্যন্তরীণ এই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তৃণমূল নেতৃত্ব এখন প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার চেয়ে আত্মবিশ্লেষণ এবং কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়াকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। আউটসোর্সিংয়ের খোলস ছেড়ে বের হয়ে মাঠের রাজনীতিতে ফেরার এই প্রয়াস দলের অভ্যন্তরীণ ফাটল রোধ এবং তৃণমূল স্তরের শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *