আকাশছোঁয়া বহুতলে নেই সুরক্ষার সিঁড়ি! দাউদাউ আগুনে জ্বলল এনসিআর, ফের কাঠগড়ায় দমকলের পরিকাঠামো

দিল্লি সংলগ্ন এনসিআর (নয়ডা, গাজিয়াবাদ ও গুরুগ্রাম) এলাকায় আকাশচুম্বী আবাসনগুলোর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কঙ্কালসার দশা ফুটে উঠেছে সাম্প্রতিক এক অগ্নিকাণ্ডে। গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরমের গৌর গ্রিন অ্যাভিনিউয়ের ভয়াবহ আগুন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, আধুনিক স্থাপত্যের গতির সাথে তাল মেলাতে ব্যর্থ হচ্ছে অগ্নিনির্বাপণ দপ্তর। এই ঘটনায় বহুতলের নবম থেকে দ্বাদশ তলা পর্যন্ত অন্তত ৮টি ফ্ল্যাট পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, যা কেবলই দৈব সুযোগ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রযুক্তি ও সক্ষমতার বিস্তর ফারাক
সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, নয়ডায় অবস্থিত ৩০৭ মিটার উচ্চতার ৮০ তলা ভবন সুপারনোভা কিংবা গাজিয়াবাদের ১২০ মিটার উঁচু আবাসনগুলোর তুলনায় দমকলের সক্ষমতা অত্যন্ত নগণ্য। বর্তমানে দমকলের কাছে থাকা হাইড্রোলিক ক্রেনগুলো সর্বোচ্চ ৪২ মিটার বা ১৪ তলা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। অথচ অধিকাংশ আবাসনগুলোর গড় উচ্চতা ৫০ মিটারের বেশি। গাজিয়াবাদের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে দেখা গেছে, ভবনের ১৩ তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়লেও দমকলের জল পৌঁছাচ্ছিল না এমনকি নবম তলাতেও। নয়ডার মতো মেগাসিটিতে মাত্র ৪টি হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে হাজার হাজার উঁচু ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিপজ্জনক আবাসন ও ভবিষ্যতের ঝুঁকি
অগ্নিনির্বাপণ দপ্তরের এই সীমাবদ্ধতার ফলে উঁচু তলার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দমকলের পাইপ দিয়ে সাধারণত ২০-২৫ তলা পর্যন্ত জল পৌঁছানো সম্ভব হলেও তার উপরের তলাগুলোর নিরাপত্তা পুরোপুরি ভবনের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় এই অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাগুলো ঠিকমতো কাজ করে না। পর্যাপ্ত উপকরণের অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন দীর্ঘ ক্রেনের স্বল্পতা ভবিষ্যতে এনসিআর এলাকার উঁচু ভবনগুলোতে বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
এক ঝলকে
- দমকলের হাইড্রোলিক ক্রেন সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেও এনসিআর-এ রয়েছে ৮০ তলা পর্যন্ত ভবন।
- নয়ডা ও গাজিয়াবাদ মিলিয়ে গগনচুম্বী ভবনের তুলনায় আধুনিক ক্রেনের সংখ্যা মাত্র ৫টি।
- গাজিয়াবাদের গৌর গ্রিন অ্যাভিনিউতে জল পৌঁছাতে না পারায় পুড়েছে ৮টি ফ্ল্যাট।
- দিল্লির বাইরে গুরুগ্রাম ও গাজিয়াবাদে পর্যাপ্ত ফায়ার স্টেশন ও দক্ষ সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
