আগামী তিন দশকে ৭০০ শতাংশ বাড়বে চরম তাপপ্রবাহের ভয়াবহতা – এবেলা

আগামী তিন দশকে ৭০০ শতাংশ বাড়বে চরম তাপপ্রবাহের ভয়াবহতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্তমান দাবদাহে দক্ষিণবঙ্গসহ দক্ষিণ এশিয়ার জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই এক উদ্বেগের পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থার সাম্প্রতিক ‘হ্যান্ডবুক’ অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং চরম তাপপ্রবাহের কবলে পড়া দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৭০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

অর্থনীতিতে নীরব ঘাতকের আঘাত

বিশ্বব্যাংক এই বাড়তে থাকা তাপমাত্রাকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা কেবল মানুষের প্রাণহানি নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলবে। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় বৈশ্বিক জিডিপি ১.৪ শতাংশ থেকে ১.৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং শ্রমবাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ার ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উত্তপ্ত শহর ও প্রতিকারের পথ

অত্যধিক কংক্রিটের দালান এবং গাছপালার শূন্যতা আধুনিক শহরগুলোকে একেকটি জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করেছে। গ্রামের তুলনায় শহরগুলোতে গড় তাপমাত্রা ৩-৪ ডিগ্রি বেশি অনুভূত হওয়ার প্রধান কারণ হলো যথেচ্ছ খনিজ সম্পদের ব্যবহার ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ। এই বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা এখন শীতল ছাদ বা ‘কুল রুফ’ প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন, যা বাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে।

সবুজায়ন ও আধুনিক নির্মাণ কৌশলের গুরুত্ব

ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় বাড়ির চারপাশে প্রচুর গাছ লাগানো এবং কৃত্রিম বন তৈরির পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কংক্রিটের বিকল্প তাপ নিরোধক সামগ্রী ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের সুযোগ রাখা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এশিয়ার জনস্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্র এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

এক ঝলকে

  • ২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহের কবলে পড়া দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে ৭০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
  • তাপপ্রবাহকে ‘নীরব ঘাতক’ আখ্যা দিয়ে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এর ফলে বৈশ্বিক জিডিপি ১.৮ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
  • অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও কংক্রিটের আধিক্যের কারণে শহরগুলো গ্রামের চেয়ে ৩-৪ ডিগ্রি বেশি উত্তপ্ত থাকছে।
  • পরিস্থিতি সামাল দিতে শীতল ছাদ প্রযুক্তি, ব্যাপক সবুজায়ন এবং তাপ নিরোধক নির্মাণ কৌশলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *