আগুন লাগিয়ে জল ঢালছে কেন্দ্র: প্রশ্নফাঁস বিল সমর্থন করেও মোদী সরকারকে তুলোধনা অভিষেকের – এবেলা

আগুন লাগিয়ে জল ঢালছে কেন্দ্র: প্রশ্নফাঁস বিল সমর্থন করেও মোদী সরকারকে তুলোধনা অভিষেকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারের আনা পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬-কে একবাক্যে সমর্থন জানালেও, বিগত এক দশকের ব্যর্থতা নিয়ে বিজেপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘সরকারই আগুন লাগিয়েছে। এখন এক বালতি জল নিয়ে আসার জন্য তাদের বাহবা দেব না।’ অভিষেকের পাশাপাশি এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেসের সাংসদ গৌরব গগৈও।

সোমবার লোকসভায় বিলটি পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং মঙ্গলবার তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে অভিষেক দাবি করেন, ২০১৪ সাল থেকে নিট, ইউজিসি-নেট, এসএসসির মতো একাধিক পরীক্ষায় বার বার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযুক্ত উপযুক্ত শাস্তি পাননি। তাঁর কটাক্ষ, ‘এই সরকার একটা শিল্পে পারদর্শী হয়ে উঠেছে — যখনই ব্যর্থ হয়, তখনই আইন বদলে দেয়। শাস্তির মাত্রা বাড়ালেই গত ১২ বছরের ব্যর্থতা মুছে যাবে না।’

কেন্দ্রকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে অভিষেক বলেন, এই বিল মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতারই এক বড় স্বীকারোক্তি। এনডিএ ও বিজেপি সরকার দেশের মেধার মর্যাদা রক্ষা করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সরকারের সামগ্রিক কর্মক্ষমতার রিপোর্ট কার্ডের পাশে ‘এফ’ অর্থাৎ ‘ফেল’ লেখা থাকা উচিত।

অখিলেশ ও গৌরবের তীব্র আক্রমণ:

সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো তথা কনৌজের সাংসদ অখিলেশ যাদব সরাসরি নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। ছাত্র আন্দোলনের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘একজন প্রধানকে সরিয়ে আপনারা আসলে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচিয়েছেন।’ অখিলেশের দাবি, সরকার যখন ভয় পায় এবং জনচাপের মুখে পড়ে, তখনই মানুষের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। গৈরিকীকরণের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি ছাত্র আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা দেন।

অখিলেশের সুরে সুর মিলিয়ে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, অথচ প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত ছিলেন ইনস্টাগ্রাম রিলস নিয়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনা নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *