আঙুলের নীল কালিতে লুকিয়ে থাকা বিপদ, পেটে গেলে হতে পারে যে শারীরিক সমস্যা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোটের মরসুমে আঙুলের ডগায় লাগানো নীল কালি বা ‘ইন্ডেলিবল ইঙ্ক’ গণতন্ত্রের উৎসবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে গর্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই কালির রাসায়নিক উপাদান অসাবধানতাবশত শরীরে প্রবেশ করলে বড় ধরনের বিপত্তি ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। মূলত সিলভার নাইট্রেট দিয়ে তৈরি এই কালি ত্বকের সংস্পর্শে এলে স্থায়ী ছাপ তৈরি করলেও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের জন্য এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
কালির রাসায়নিক গঠন ও বিষক্রিয়া
ভারতে ব্যবহৃত নির্বাচনী কালিতে সাধারণত ১০ থেকে ১৮ শতাংশ সিলভার নাইট্রেট ব্যবহৃত হয়। এটি একটি মৃদু ক্ষয়কারী রাসায়নিক উপাদান যা শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। সামান্য পরিমাণ কালি মুখে গেলে সাধারণত বড় সমস্যা হয় না, তবে বেশি মাত্রায় সিলভার নাইট্রেট পেটে গেলে তীব্র পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি রক্তচাপ কমিয়ে দিয়ে ব্যক্তিকে অচৈতন্য করে ফেলার ক্ষমতা রাখে।
প্রতিরোধ ও জরুরি পদক্ষেপ
অসাবধানতাবশত এই কালি গিলে ফেললে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে প্রচুর জল বা দুধ পান করলে সিলভার নাইট্রেটের রাসায়নিক প্রভাব অনেকটাই প্রশমিত হয়। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে জোর করে বমি করানো উচিত নয়, কারণ এতে শ্বাসনালীতে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বা অস্বস্তি বাড়লে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
এক ঝলকে
- ভোটের কালিতে থাকা সিলভার নাইট্রেট একটি মৃদু ক্ষয়কারী রাসায়নিক পদার্থ যা শরীরের অভ্যন্তরীণ কোষের ক্ষতি করতে পারে।
- এই রাসায়নিক পেটে গেলে বমি, পেটে জ্বালাপোড়া এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- বিপদ এড়াতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রচুর পরিমাণে দুধ বা জল পান করানো জরুরি কারণ দুধ রাসায়নিকের তীব্রতা কমায়।
- পরিস্থিতি জটিল হলে কোনো ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার না করে সরাসরি চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।
