আজই আয়ুর্বেদ দিবস! অথচ রাজ্য জুড়ে সরকারি হাসপাতালে গায়েব ওষুধ, নাজেহাল রোগীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 23, 20269:15 am
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ১১তম আয়ুর্বেদ দিবস। একদিকে যখন দেশীয় চিকিৎসা পদ্ধতি প্রসারে আয়ুর্বেদ ও যোগ-এর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে দেখা দিয়েছে আয়ুর্বেদিক ওষুধের তীব্র সংকট। বিনামূল্যের সরকারি ওষুধ না পেয়ে চড়া দামে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
কোথায় গলদ? রাজ্যে আয়ুর্বেদিক ওষুধ সরবরাহের মূল কেন্দ্রটি হলো কল্যাণীর ‘স্টেট ফার্মাকোপিয়াল ল্যাবরেটরি অ্যান্ড ফার্মাসি ফর ইন্ডিয়ান মেডিসিন’ (SPLPIM)। অভিযোগ, মাসের পর মাস এই কেন্দ্র থেকে জেলাগুলিতে পর্যাপ্ত ওষুধ পৌঁছচ্ছে না।
- উৎপাদনে ধস: সরকার অনুমোদিত ৮৪টি ওষুধের মধ্যে উৎপাদন কমতে কমতে এখন মাত্র ৩৫টিতে এসে ঠেকেছে।
- সরবরাহে ঘাটতি: পঞ্চায়েত ডিসপেনসারি থেকে ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র— চিকিৎসকদের দাবি, গত প্রায় এক বছর ধরে কল্যাণীর কেন্দ্রটি থেকে নিয়মিত ওষুধ মিলছে না।
কোথায় কোথায় প্রভাব পড়েছে? রাজ্যের বিস্তীর্ণ আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার ওপর এই সংকটের ছায়া পড়েছে। প্রভাব পড়েছে—
- ৩০০টি আয়ুষ্মান আরোগ্য কেন্দ্র
- ২৯০টি আয়ুর্বেদিক ডিসপেনসারি
- ৪০টি গ্রামীণ হাসপাতাল ও ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র
- ১২০টি গ্রাম পঞ্চায়েত ডিসপেনসারি
- ২টি ইন্টিগ্রেটেড আয়ুষ হাসপাতাল (তপসিখাতা ও মেদিনীপুর)
কোন কোন জরুরি ওষুধ অমিল? কল্যাণীর কেন্দ্র থেকে সরবরাহ হওয়া যে ৩৫টি ওষুধের চরম সংকট তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— কুরুচিবেল, নিম্বাদি, তালিসাদি, যোগরাজ গুগ্গুল, আমলকীচূর্ণ, মধুগন্ধা, ধাত্রীলৌহ, সর্পগন্ধা, অশোকালৌহ, গুরুচিতেল ও ফলত্রিকাদি।
কী বলছে প্রশাসন? পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। ২১টি জেলার ২৭৪টি আয়ুর্বেদিক ইউনিটের জন্য ২৭ লক্ষ টাকার ওষুধ কেনার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সমস্যার কথা স্বীকার করে আয়ুর্বেদ অধিকর্তা ডাঃ দেবাশিস ঘোষ জানান, “সমস্যাটি উৎপাদনের চেয়েও বেশি পরিবহণের। জেলাগুলির সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত জট ছাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আপাতত স্থানীয়ভাবেই ওষুধ কেনা হচ্ছে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
