আটপৌরে শাড়ি পরে নাটক! পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কি ধরনা? মমতাকে নজিরবিহীন আক্রমণ শুভেন্দুর

আটপৌরে শাড়ি পরে নাটক! পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কি ধরনা? মমতাকে নজিরবিহীন আক্রমণ শুভেন্দুর

ভোট পরবর্তী বাংলার রাজনীতিতে এখন উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দু সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্ট্রংরুম। বৃহস্পতিবার সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘক্ষণ অবস্থানকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি নেতার দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী এখন রিটার্নিং অফিসার ও প্রশাসনের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আঙুল তোলার ছক কষছেন। মূলত রাজনৈতিক চমক দেওয়ার লক্ষ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে চার ঘণ্টা বসেছিলেন বলে শুভেন্দু অভিযোগ করেন।

ব্যক্তিগত আক্রমণ ও রাজনৈতিক সংঘাত

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর পোশাক ও ধরনা দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, রাতে অবস্থানে বসার লক্ষ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ‘আটপৌরে’ শাড়ি পরে এসেছিলেন এবং এটি তাঁর পুরোনো ‘বদভ্যাস’। বিরোধী দলনেতার মতে, সিসিটিভি ও কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকা সত্ত্বেও স্ট্রংরুমে গিয়ে বসে থাকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশেরই নামান্তর। তিনি দাবি করেন, যখনই শাসক দল চাপে থাকে, তখনই তারা নির্বাচন কমিশনের ওপর দায় চাপানোর জন্য নাটকের আশ্রয় নেয়।

নির্বাচন পরবর্তী প্রভাব ও সতর্কতা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একদিকে তৃণমূল শিবির কারচুপির আশঙ্কায় সজাগ থাকার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপি একে ‘হারের ভয়’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই শুভেন্দু অধিকারী সকলকে ২০২১ সালের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে সংযত থাকার এবং নির্বাচন পরবর্তী হিংসা থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনার আগে এই বাদানুবাদ দুই পক্ষের স্নায়ুর লড়াইকে আরও বাড়িয়ে দিল।

এক ঝলকে

  • স্ট্রংরুমে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানকে ‘নাটক’ ও ‘রাজনৈতিক চমক’ বলে অভিহিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
  • পরাজয়ের দায় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের ওপর চাপাতেই এই চিত্রনাট্য সাজানো হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
  • মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা দেওয়ার প্রবণতা ও পোশাক নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
  • উত্তেজনা প্রশমনে সবাইকে সংযত থাকার ও হিংসা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *