‘আত্মসমর্পণ নয়, দেখা করতে এসেছি!’ ইডি দফতরে ঢোকার মুখে বিস্ফোরক সোনা পাপ্পু – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
লুকোচুরি শেষে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির রবীন্দ্র সরোবর কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু! দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে সোমবার সকালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দফতরে এসে পৌঁছালেন বিশ্বজিৎ দাস ওরফে সোনা পাপ্পু। তবে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতে এতদিন বেপাত্তা থাকা এই প্রভাবশালী ব্যক্তি সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার মুখে স্পষ্ট জানান, তিনি কোনও আত্মসমর্পণ করতে আসেননি, বরং তদন্তকারীদের সঙ্গে স্রেফ দেখা করতে এসেছেন। একই সঙ্গে নিজের অপরাধের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন যে তিনি কোনও অন্যায় বা দোষ করেননি।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় একটি বড়সড় গন্ডগোলের ঘটনায় নাম জড়ানোর পর থেকেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে ছিলেন সোনা পাপ্পু। তদন্তকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। মাঝেমধ্যে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সমাজমাধ্যমে ‘লাইভ’ করে নিজের অবস্থান জানান দিলেও বাস্তবে তাঁর নাগাল পাচ্ছিলেন না কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। অবশেষে সোমবার তাঁর এই আকস্মিক হাজিরা রবীন্দ্র সরোবর কাণ্ডের তদন্তে একটি বড় মোড় এনে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সিন্ডিকেট রাজ ও বিপুল সম্পত্তি উদ্ধার
ইডি সূত্রে খবর, কসবা এবং বালিগঞ্জের মতো দক্ষিণ কলকাতার একাধিক অভিজাত এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন এই সোনা পাপ্পু। তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তোলাবাজি, হুমকি এবং জোরজুলুমের একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন থানায় তাঁর নামে বেশ কয়েকটি এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর খোঁজ না মিললেও গত এপ্রিল মাসে সোনা পাপ্পুর কসবা ও বালিগঞ্জের ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডির আধিকারিকেরা। সেই তল্লাশিতে তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সম্পত্তির নথিপত্র উদ্ধার হয়, যার কোনও সদুত্তর সে সময় মেলেনি।
জেরার মুখে সোনা পাপ্পু
সোমবার ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার পর সোনা পাপ্পুকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। মূলত, তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপার্জিত কালো টাকা ঠিক কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা জানাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, সোমবারের এই হাজিরার পর এবং ইডির জেরার মুখে দক্ষিণ কলকাতার সিন্ডিকেট সাম্রাজ্যের আরও বহু রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসতে পারে, যা আগামী দিনে এই তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়ে দেবে।
এক ঝলকে
- রবীন্দ্র সরোবর কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ দাস ওরফে সোনা পাপ্পু সোমবার সল্টলেকের ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন।
- দীর্ঘদিন পলাতক থেকে সমাজমাধ্যমে লাইভ করলেও সোমবার তিনি নিজেই সিজিও কমপ্লেক্সে আসেন এবং দোষ স্বীকার না করে দাবি করেন তিনি শুধু দেখা করতে এসেছেন।
- কসবা ও বালিগঞ্জের অভিজাত এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি ও প্রোমোটারদের হুমকির অভিযোগে তাঁর নামে একাধিক এফআইআর ছিল এবং তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছিল।
- ইডি আধিকারিকরা উদ্ধার হওয়া কালো টাকার উৎস ও বিনিয়োগের খোঁজে তাঁকে ম্যারাথন জেরা করছেন, যার জেরে আরও பல প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
