আদালত অবমাননার নোটিস ও নতুন আইনি লড়াইয়ে তীব্র অস্বস্তিতে শাসকদল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা হাইকোর্টের জোড়া ধাক্কায় রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গেল। একদিকে ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আদালত অবমাননার মামলায় নোটিস পাঠানো হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
ধর্মতলায় রাস্তা আটকে সমাবেশ ও আইনি জটিলতা
আর মাত্র মাসখানেক পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের বার্ষিক ‘শহিদ দিবস’ কর্মসূচি। তার আগেই ধর্মতলায় রাস্তা আটকে এই সমাবেশ করা নিয়ে বড়সড় আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়লেন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ধর্মতলার মতো ব্যস্ততম এলাকা বন্ধ করে সভা করার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিস জারির নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনা দলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি ও জল্পনা তৈরি করেছে।
বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে রাজভবন বনাম বিধানসভা
আইনি টানাপোড়েনের দ্বিতীয় অধ্যায়টি তৈরি হয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। স্পিকার কীভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিলেন, তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। এই সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ একটি নির্দেশ দিয়েছিল। এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি আইনি লড়াই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে শহিদ দিবসের মতো আবেগের কর্মসূচি নিয়ে আইনি কড়াকড়ি শাসকদলের সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে বাধা তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতার পদ সংক্রান্ত মামলার গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে বিধানসভার ভেতরের সমীকরণ। সব মিলিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক— উভয় ফ্রন্টেই আগামী দিনগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
