‘আমাকে বাজারে বিক্রি করেছেন মমতা!’ তৃণমূলের চরম সংকটে বিস্ফোরক বৈশাখী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতি ও ভরাডুবি নিয়ে এবার সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলনেত্রীর পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিম, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ-অনন্যা জুটিকে নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক বোমা ফাটালেন তিনি।
মমতার বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ
বৈশাখীর সরাসরি অভিযোগ, তাঁর ও শোভনের সম্পর্ককে প্রকাশ্যে এনে তাঁকে চরম অপমান করেছেন মমতা। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমি চাইনি শোভনকে সামনে রাখি আর পিছনে অন্য সম্পর্ক চলুক। সবটা মমতাদিকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে মিটিংয়ে আমি আলোচনার বস্তু হয়ে গেলাম। আমাকে ঘর থেকে বের করে বাজারে বিক্রি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!” তাঁর দাবি, ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা একটি দল হারের পর ১৫ মাসও টিকল না, দলের এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য মমতা নিজেই দায়ী।
ফিরহাদ হাকিম ও অভিষেককে নিশানা
সদ্য দলবদল করা ফিরহাদ হাকিমকে ‘অযোগ্য’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বৈশাখী। তাঁর বিস্ফোরক দাবি:
- শোভনকে চক্রান্ত করে সরিয়ে ফিরহাদকে কলকাতার মেয়র করা হয়েছিল।
- ফিরহাদ কেবল একজন ‘টকেটিভ’ (বাচাল) মেয়র, শহর কলকাতার কোনও উন্নয়ন তিনি করেননি।
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, “একটা বাচ্চা ছেলে জন্মদিন পালন করছে, আর প্রবীণ নেতারা ছবির জন্য অপেক্ষা করছেন! দলটা পুরো কর্পোরেট হয়ে গিয়েছে।”
অরূপ-অনন্যা নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ
তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস ও অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বোমা ফাটিয়ে বৈশাখী বলেন, “ওঁরা অনেক আগে থেকেই রংমিলান্তি করতেন।” তাঁর দাবি, একটি সিনেমার প্রিমিয়ারে গিয়ে তিনি দেখেন অনন্যার শাড়ির আঁচল শোভনের মাথায়! এর প্রতিবাদ করায় অনন্যা নাকি তাঁকে বুক ঠুকে বলেছিলেন, “মেয়র-মন্ত্রীদের খুশি করতে হয়।” বৈশাখীর পাল্টা প্রশ্ন, “খুশি করেই কি কাউন্সিলর হবেন?”
শুভেন্দুর প্রশংসা ও শোভনের আনুগত্য
বৈশাখী মনে করেন, শোভন ও শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতারা মাটি থেকে উঠে এসেছেন, তাই তাঁরা আইপ্যাকের (I-PAC) আধিপত্য মেনে নিতে পারেননি। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। তবে এতকিছুর পরেও তৃণমূলের এই ঘোর দুর্দিনে শোভন চট্টোপাধ্যায় কেন মমতার পাশে? এই প্রসঙ্গে বৈশাখী স্পষ্ট জানান, মমতা দূরে ঠেলে দিলেও শোভন এখনও তাঁকে শ্রদ্ধা করেন এবং নিজের পরিবারের সদস্য বলেই মনে করেন, তাই বাধা দিয়ে তিনি নিজে ছোট হতে চাননি।
