“আমি ঘুমাচ্ছিলাম, ও সব শেষ করে দিল!” কানপুরে দুই মেয়েকে খুনের পর মায়ের বুকফাটল আর্তনাদ

“আমি ঘুমাচ্ছিলাম, ও সব শেষ করে দিল!” কানপুরে দুই মেয়েকে খুনের পর মায়ের বুকফাটল আর্তনাদ

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিউরে উঠেছে দেশ। ১১ বছর বয়সী নিজের দুই যমজ কন্যাকে গলা টিপে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তাদের বাবা শশী রঞ্জন মিশ্র। শিলিগুড়ির বাসিন্দা রেশমা খাতুনের সঙ্গে ২০১৪ সালে বিয়ে হয়েছিল শশীর। গত কয়েক বছর ধরে তাদের পারিবারিক কলহ এবং আর্থিক অনটন চরম আকার ধারণ করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের নৃশংস চিত্র

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার রাতে যমজ দুই মেয়েকে নিজের ঘরে নিয়ে যায় শশী। গভীর রাতে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাদের অচেতন করে ফেলে সে। এরপর তারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলে প্রথমে তাদের শ্বাসরোধ করা হয় এবং পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কেটে দেয় ওই ঘাতক বাবা। পাশের ঘরে থাকা মা কিংবা ছোট ভাই টেরই পাননি যে ঘরের ভেতরেই ঘটে যাচ্ছে এই নারকীয় তাণ্ডব। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ অভিযুক্ত নিজেই পুলিশে ফোন করে এই খুনের কথা জানায়।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা কারণ

অভিযুক্ত শশী আগে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করত, কিন্তু বর্তমানে সে কর্মহীন ছিল। বেকারত্বের জ্বালা, চরম আর্থিক অনটন এবং স্ত্রীর প্রতি সন্দেহপ্রবণতা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। এমনকি নিজের বাড়ির ভেতর সিসিটিভি ক্যামেরাও বসিয়েছিল সে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কারণেই সে তাদের মেরে ফেলেছে, যদিও তদন্তকারীরা এর পেছনে গভীর মানসিক অবসাদ ও মাদকের আসক্তিকে দায়ী করছেন।

এই বর্বরোচিত ঘটনা কেবল একটি পরিবারকে ধ্বংস করেনি, বরং বেকারত্ব ও মানসিক অসুস্থতা কীভাবে একজন মানুষকে ঘাতকে পরিণত করতে পারে, তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেফতার করেছে এবং মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

এক ঝলকে

  • উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ১১ বছর বয়সী যমজ দুই বোনকে নৃশংসভাবে খুন করল জন্মদাতা বাবা।
  • সন্তানদের খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচৈতন্য করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটা হয়।
  • দীর্ঘদিনের বেকারত্ব, পারিবারিক বিবাদ ও মানসিক অবসাদই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে প্রাথমিক ধারণা।
  • অভিযুক্ত শশী রঞ্জন মিশ্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, মা ও ছোট ভাই বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *