আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পাকিস্তানের বাজিমাত! প্রকাশ্যে এল ১৪ দফার শর্ত – এবেলা

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পাকিস্তানের বাজিমাত! প্রকাশ্যে এল ১৪ দফার শর্ত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রায় চার মাস ধরে চলা উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৯ জুন শুক্রবার ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে আমেরিকা ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে ১৪ জুন চুক্তির কথা জানালেও মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে ইরানকে রাজি করাতে আরও কিছুটা সময় নেয় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত সোমবার ভোররাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ প্রথম এই চুক্তিতে দুই দেশের সহমতের কথা বিশ্ববাসীকে জানান। পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।

সমঝোতার নেপথ্য কারণ ও পাকিস্তানের ভূমিকা

এই চুক্তি সম্পন্ন হলে তা পাকিস্তানের জন্য একটি বিশাল কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। গত চার মাস ধরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধান এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। মূলত ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার সীমানা, মজবুত বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিন্নতার কারণেই ইসলামাবাদ প্রথম থেকেই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। নিজেদের নাকের ডগায় মার্কিন হামলা ঠেকাতে তাই পাকিস্তান তৎপর হয়। অন্যদিকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতকে চাপে রাখতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে এই প্রক্রিয়ায় সচেতনভাবে এগিয়ে দিয়েছেন।

চুক্তির উল্লেখযোগ্য শর্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব

ইরান ও আমেরিকার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তিতে মোট ১৪টি অনুচ্ছেদ রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমেরিকা কোনো হস্তক্ষেপ করবে না এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা ৩০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করবে। চুক্তির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্তের মধ্যে রয়েছে— লেবানন-সহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইরান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরানের তেল ও জ্বালানির ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলি থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। সেই সঙ্গে আমেরিকার তরফ থেকে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি বা নিষেধাজ্ঞা জারি না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্ত মেনে নিয়েছে।

এই চুক্তির একটি বড় ও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে। চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং আমেরিকা সেখান থেকে অবরোধ তুলে নেবে। ইরানও ওই প্রণালী ব্যবহারের বিনিময়ে এতদিন যে অর্থ সংগ্রহ করছিল, তা বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহণ ব্যবস্থা সহজতর হবে এবং বিশ্বব্যাপী তেল আমদানির খরচ অনেকটাই হ্রাস পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *