আরজি কর মামলায় হঠাৎ বড় মোড়! কেন সরে দাঁড়াল বিচারপতি মান্থার বেঞ্চ?

আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের মামলায় নতুন মোড়। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলা থেকে সরে দাঁড়াল। মামলার আধিক্য এবং পর্যাপ্ত সময়ের অভাবকেই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে আদালত। একইসঙ্গে বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— এই ঘটনায় রাজ্য সরকার সম্ভবত একটি পৃথক ‘জুডিশিয়াল কমিশন’ বা বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন করতে চলেছে।
কেন সরে দাঁড়াল বিচারপতি মান্থার বেঞ্চ?
বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আদালতের হাতে বর্তমানে মামলার চাপ অত্যন্ত বেশি। আরজি করের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সুবিচারের স্বার্থে দীর্ঘ শুনানির প্রয়োজন। তাই যে বেঞ্চ এই মামলার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবে, সেখানেই শুনানি হওয়া উচিত বলে মনে করছে আদালত। উল্লেখ্য, এর আগে গত মার্চ মাসে সময়ের অভাবের কথা জানিয়ে এই মামলা থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চও।
সিবিআই-এর স্টেটাস রিপোর্ট পেশ
এ দিন কলকাতা হাইকোর্টে আরজি কর মামলার তদন্তের ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ পেশ করে সিবিআই। আদালত সেই রিপোর্ট গ্রহণ করেছে। পূর্ববর্তী শুনানিতে বিচারপতি মান্থার বেঞ্চ সিবিআই-কে নির্দেশ দিয়েছিল যে, তদন্তের প্রয়োজনে সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় বা অন্য যে কোনও সন্দেহভাজনকে কেন্দ্রীয় সংস্থা পুনরায় জেরা করতে পারবে। সেই সংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্যই এ দিন রিপোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি করে মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। নিম্ন আদালতে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের আজীবন কারাদণ্ড হলেও, সিবিআই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। সুপ্রিম কোর্ট হয়ে মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টে ফিরে আসে। কিন্তু বারবার বেঞ্চ বদল হওয়ায় মামলার চূড়ান্ত শুনানি কিছুটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এখন রাজ্য সরকার সত্যিই কোনও পৃথক বিচারবিভাগীয় কমিশন গড়ে কি না এবং হাইকোর্টের কোন নতুন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।
