ইচ্ছার বিরুদ্ধে মা হতে বাধ্য করা যাবে না কাউকে, নাবালিকার গর্ভপাতে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে প্রজনন স্বাস্থ্যের অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে এক নজিরবিহীন মাইলফলক তৈরি করল সুপ্রিম কোর্ট। ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সাত মাসেরও বেশি সময়ের গর্ভপাতের অনুমতি দিয়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কোনো নারী বা নাবালিকাকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ চালিয়ে যেতে বাধ্য করা যায় না। বিচারপতি বি. ভি. নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের এই রায় নারীর শরীরের ওপর তাঁর নিজস্ব অধিকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করল।
মৌলিক অধিকার ও প্রজনন স্বায়ত্তশাসন
আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং গোপনীয়তার অধিকারের মধ্যেই প্রজনন স্বায়ত্তশাসন নিহিত। একজন নারীর প্রজনন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একান্তই তাঁর নিজস্ব। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভাবস্থা জোর করে চালিয়ে নিতে বাধ্য করলে ওই নাবালিকার মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক বিকাশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে যে, কোনো ব্যক্তিকে তাঁর অমতে মা হতে বাধ্য করা মানেই হলো তাঁর মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সুরক্ষার অগ্রাধিকার
শুনানি চলাকালীন শিশুটিকে জন্ম দিয়ে দত্তক দেওয়ার যুক্তি উঠলেও আদালত তা সরাসরি খারিজ করে দেয়। বিচারকদের মতে, গর্ভবতী ব্যক্তির অধিকার ও কল্যাণের ওপর অন্য কোনো সামাজিক বিবেচনা প্রাধান্য পেতে পারে না। বিশেষ করে এই মামলার ক্ষেত্রে কিশোরীটি মানসিক ট্রমার কারণে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল। আইনি অনুমতি না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অসুরক্ষিত বা অবৈধ উপায়ে গর্ভপাতের পথ বেছে নিতে পারেন, যা তাঁদের জীবনকে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। তাই সামাজিক রীতির চেয়ে ব্যক্তির মর্যাদা ও সুস্থ থাকবার অধিকারকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এক ঝলকে
- ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সাত মাসের গর্ভাবস্থা অবসানের ঐতিহাসিক অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট।
- প্রজনন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
- ইচ্ছার বিরুদ্ধে গর্ভধারণ চালিয়ে যাওয়াকে গুরুতর মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে আদালত।
- কোনো সামাজিক বা আইনি যুক্তিই একজন নারীর প্রজনন স্বায়ত্তশাসনের ওপর প্রাধান্য পাবে না বলে জানানো হয়েছে।
