ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সুর নরম মমতার, বৃহত্তর ঐক্যে কংগ্রেসকে ‘বড় মন’ রাখার বার্তা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে বিরোধী দলগুলির মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যের নতুন ছবি ধরা পড়ল। সোমবারের এই বৈঠকে মূলত অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিরসন এবং বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। জোটের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কংগ্রেসকে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, আঞ্চলিক দলগুলির স্পষ্ট দাবি— বৃহত্তর স্বার্থে কংগ্রেসকে আরও উদার বা ‘বড় মন’ দেখাতে হবে। সাম্প্রতিক নানা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলির প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণেই এই আপসপন্থী ও ঐক্যবদ্ধ রণকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তিত অবস্থান
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তিত রাজনৈতিক অবস্থান। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর তিনি কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুললেও, সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে দলের বিপর্যয় এবং অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের পর তাঁর সুর অনেকটাই নরম। বৈঠকে তিনিই জোটসঙ্গীদের পারস্পরিক সমালোচনা থেকে বিরত থাকার প্রস্তাব দেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক শুরুর আগে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁর দশ মিনিটের আলাপচারিতা এবং আলিঙ্গন বিরোধী শিবিরের নতুন সমীকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
আসন সমঝোতা ও জোটের ভবিষ্যৎ সমীকরণ
জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি কংগ্রেসকে বার্তা দিয়েছেন, প্রধান বিরোধী দলটির ‘বড় মন’ থাকা উচিত এবং আঞ্চলিক স্তরে সবচেয়ে শক্তিশালী বিজেপি-বিরোধী দলকে সমর্থন করা উচিত। কেরালায় পিনারাই বিজয়নের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ডিএমকে-র সঙ্গে জোট ভাঙার ইস্যুতে কংগ্রেসের সমালোচনাও করেন তিনি। অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ নতুন রাজনৈতিক শক্তি ‘সিজেপি’-কে সমর্থনের পাশাপাশি স্পষ্ট করে দেন যে, কংগ্রেসই এই জোটকে একসঙ্গে ধরে রাখার মূল ‘আঠা’।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই বৈঠকে এনডিএ-র মোকাবিলায় পারস্পরিক আস্থার ওপর জোর দেন। রাহুল গান্ধী বাংলার নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ইভিএমের বদলে ব্যালট পেপারে ভোটের পক্ষে সওয়াল করেন। ইতিপূর্বে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন সময়ে জোটে যে নেতৃত্বের সংঘাত দেখা গিয়েছিল, এবারের বৈঠকে তার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি একটি উল্লেখযোগ্য দিক। নেতাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরকে আরও সুসংগঠিত করে তুলতে পারে।
